প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৭:৪৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৩, ২০২১, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
শরনখোলায় পুকুরের মাটি বিক্রি করায় ধসে গেছে গুরুত্তপুর্ন সড়ক,ঝুঁকিতে দুটি পরিবার

মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ শরণখোলা প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের শরনখোলায় পুকুরের মাটি বিক্রি করায় ধসে গেছে জনসাধারনের চলাচলের একটি গুরুত্তপুর্ন সড়ক। পাশাপাশি চরম ভাঙ্গনে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পুকুরটির উভয় পার্শে বসবাসরত অসহায় নাছিমা বেগম সহ নির্মান শ্রমিক দেলোয়ারের পরিবার। স্থানীয়দের সুত্র জানায়, উপজেলা প্রসাশন পাড়া সংলগ্ন আকন বাড়ী অবস্থিত বহু বছরের পুরানো সরকারী একটি দীঘির সম্পুর্ন কাঁদা মাটি ৩৫/১ পোল্ডারের ভেরীবাঁধে কাজে নিয়োজিত চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্প্রতি ১লাখ ৪০ হাজার টাকায় পুকুরটির সম্পুর্ন মাটি বিক্রয় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গাফফার আকন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে পুকুরটির গভীরতা অনেক বৃদ্ধি করায় হঠাৎ করে (শুক্রবার) গভীর রাতে পুকুরটির উত্তর পার্শে অবস্থিত পশ্চিম রাজৈর এলাকার পাকা সড়কটির প্রায় ১শ ফুট এলাকা জুড়ে খননকৃত পুকুরটির মাঝে ধসে পড়ে। পুকুরটির উত্তর পার্শে বসবাসরত বাসিন্দা স্বামী পরিত্যাক্তা নাছিমা বেগম (৩৫) বলেন, আমার এই জমিটুকু ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। ভাঙ্গাচোরা একটু ঘরে কোন মতে থাকতাম।
তাও টাকার লোভে পড়ে পুকুরের মালিক চায়নাদের কাছে মাটি বিক্রি করায় হঠাৎ রাতে শুনি মর মর শব্দ। তখন ধারনা করি ভুমিকম্প শুরু হয়েছে। সকালে জেগে দেখি ঘরের পার্শের পাকা রাস্থাটি অনেক জায়গা ধরে ভেঙ্গে পুকুরে পড়েছে। আর একটু হলে মোর ঘর ও চলে যেত পুকুরের মধ্যে। তাই এখন সব সময় আতংঙ্কে থাকি। স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল আকন বলেন – পুকুরের মালিক দাবী করে, গফফার আকন ওই মাটি বিক্রি করেন। রাস্তা ভেঙ্গে জনসাধারনের ক্ষতি হয়ে থাকলে তার জন্য দায়ী চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সহ গফফার আকন। তাই রাস্তা মেরামতের দ্বায়-দ্বায়িত্ব কেবল তাদের।
তবে, আ.গফফার আকন বলেন, মামলা করে আমি পুকুরটির মালিক হিসেবে রায় পেয়েছি। এলাকা বাসীর স্বার্থে পুকুরটি খনন করা দরকার। তাই সামান্য টাকায় মাটি বিক্রি করি। টাকা এখনও হাতে পাইনি। কাজ শেষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করবেন। কিন্তু ঠিকাদার গ্রুপ এতো মাটি তুলে নিবেন এবং হঠাৎ করে এমন সমস্যা হবে তা বুঝতে পারি নাই। এখন (ওরা) আমাকে ঠিকাদাররা পাইলিং করে সড়কটি শীঘ্রই ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মুঠোফোনে বহুবার ফোন করলেও তারা রিসিপ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.