প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ১২:৪৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২১, ২০২০, ৬:০৫ পি.এম
বগুড়ায় অবৈধ ভাবে নদী ও ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনে ব্রীজসহ রাস্তা ও শত শত বিঘা আবাদি জমি হুমকির মুখে

এম.এ রাশেদ,বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়ানের তেলিহারা গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদী থেকে অবৈধ ভাবে ভূগর্ভস্থ ও নদীতে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রবেশ করার এক মাত্র রাস্তাা দেবে ভেংগে হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারী ভাবে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও অত্র এলাকার প্রভাবশালী বেশ কয়েক জন বালু ব্যাবসায়ী অবৈধ ভাবে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এব্যাপারে এলাকাবাসি মাননীয় জেলা প্রশাসক বগুড়া, পুলিশ সুপার বগুড়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বগুড়া সদর, সহকারী কমিশনার (ভুমি) বগুড়া সদর ও থানা পুলিশের নিকট লিখিত অভিয়োগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি।
অভিযোগ ও সরজমিনে গিয়ে জানাগেছে, বগুড়া সদর উপজেলার ৭নং শেখেরেকোলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড তেলিহারা উত্তর পাড়া গ্রামের পাশর্^দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদী হতে স্থানীয় কিছু বালু ব্যাবসায়ী বেশ কিছুদিন হলে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে ভূগর্ভস্থ ও নদী থেকে বালু উত্তোল করছে। এর ফলে নদীর ধারের জমিগুলো ভেঙ্গে দেবে গেছে। সরকারী অর্থায়নে নির্মিত একটি ব্রীজ হুমকির মুখে পড়েছে। ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী একই স্থানে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসির সঙ্গে বালু ব্যাবসায়ীদের সংঘর্স হয় এতে একজন নিরীহ কৃষক নিহত হয়।
এ ব্যাপরে স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হককে প্রধান আসামী করে ২৫জনের নামে একটি হত্যা মামলা হয় যা এখনও বিচারাধীন আছে। ভুক্তভুগী এলাকাবাসী জানায় অচিরেই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে যে কোন সময় আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্স ঘটতে পারে। বালু উত্তোলনের ফলে বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় পরিবেশগত ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আবাদি জমিসহ আশপাশের গ্রাম, রাস্তা হুমকির মুখে পড়লেও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসির অভিয়োগ ভূমি দস্যুরা প্রকাশ্যে তেলিহারা করতোয়া নদী থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে ড্রেজিং এর মাধ্যমে কয়েক মাস যাবৎ অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
এবং ট্রাক যোগে এসব বালু অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় কৃষকের বপনকৃত ফসল নষ্ট করছে। প্রায় শতাধিক কৃষকের কিছু কিছু আবাদি জমি সম্পর্ন ভেংগে দেবে গেছে,কোন জমির আংশিক ভেংগে গেছে। এব্যাপারে ভুক্তভুগি কৃষকরা নিজেদের শেষ সম্বল আবাদি জমি টুকু বালু উত্তোলনকারী ভুমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষাকরার জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ ব্যাপারে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজিজুর রহমান জানান তেলিহারায় বালু উত্তোলনের ব্যাপারে শুনেছি তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.