প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৩:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১৮, ২০২০, ৩:৪৩ পি.এম
পেকুয়ায় বনের জমিতে পাকা দালান !

মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ, পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ বনের জমি পুনরুদ্ধারে সারাদেশে যেখানে সাড়াশি অভিযানে নেমেছে বনবিভাগ, সেখানে কক্সবাজার পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনের ভেতর প্রতিনিয়ত গড়ে ওঠছে নানা স্থাপনা। দায়িত্বশীলদের কর্তব্য পালনে অবহেলা ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের কারণে বনের জমি পুনরুদ্ধারের মতো সরকারের এ যুগান্তকারী পদক্ষেপের সুফল মিলছে না বলে পরিবেশবাদীদের অভিমত।
সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বারবাকিয়া বনবিটের মৌলভী পাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমির ৫০ শতক জমি দখল করে নির্মিত হচ্ছে একটি পাকা দালান (ভবন)। নির্মাণাধীন ওই ভবনের পাইলিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। এখন ইট গাঁথুনির কাজ চলছে। আশেপাশে মজুদ রয়েছে ইট, বালি, রডসহ যাবতীয় কাঁচামাল ও সরঞ্জাম।
গত একমাস ধরে একই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে মৌলভী মো. ইলিয়াস ভবনটি নির্মাণ করে আসলেও তা নজরে আসেনি বনবিভাগের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন তিনটি বনবিটে (টৈটং, বারবাকিয়া ও পহরচাঁদা) দুই হাজার একর বনভূমি রয়েছে। কিন্তু বনবিভাগের নিষ্ক্রিয়তায় দিনদিন কমছে এর আয়তন। সংরক্ষিত এসব বনভূমিতে বর্তমানে গড়ে ওঠেছে পাঁচ হাজারের অধিক কাঁচা-পাকা স্থাপনা। তাছাড়া বনের মূল্যবান গাছগাছালি চুরি, সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে মাটি লুট ও পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু তুলে বিক্রি হচ্ছে অবাধে।
স্থানীয় পরিবেশবাদীদের দাবী, বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বনভূমি দখলে জড়িত। এতে বনাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ জায়গা বেদখল হচ্ছে। বনের জমিতে অবৈধভাবে ভবন স্থাপনকারী মৌলভী মো. ইলিয়াস বলেন, বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার অনুমতির জন্য ভিলেজার কবিরকে টাকা দিয়েছি। তাঁর কথামতো আমি ভবন নির্মাণ শুরু করেছি।
এব্যাপারে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লার বলেন, টৈটং ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া এলাকায় বনের জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন বনভূমি দখলকারীকে ছাড় দেয়া হবে না।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.