হোম » প্রধান সংবাদ » রেজিস্ট্রারকে অপসারণের দাবির মুখে রাবির ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত মিটিং স্থগিত, হট্টগোল! 

রেজিস্ট্রারকে অপসারণের দাবির মুখে রাবির ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত মিটিং স্থগিত, হট্টগোল! 

রাবি প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর আব্দুল বারীকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু রেজিস্ট্রারকে অপসারণে না করেই তারই চিঠিতে মিটিংয়ের আহ্বান করে। তাকে অপসারণ না করায় শিক্ষকদের আপত্তির মুখে এবং হট্টগোল সামাল দিতে না পেরে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের একাডেমিক সভাটি স্থগিতের ঘোষনা করেন উপাচার্য।
সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০ টায় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা শুরু হলেই রেজিস্ট্রারকে নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। শিক্ষক নিয়ােগের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ইউজিসির তদন্ত কমিটিকে বিভিন্ন পর্যায়ে অসহযােগিতা করে অসদাচরণ করায় রেজিস্ট্রারের পদ হতে অধ্যাপক বারীকে অব্যাহতি প্রদানের প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও সরকারী আদেশ অমান্য করে সেই রেজিস্টারকে স্বপদে বহাল রেখেছেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান। এমনকি তারই স্বাক্ষরিত চিঠিতে একাডেমিক মিটিংয়ে শিক্ষকদের আহ্বান করেছেন উপাচার্য। এসব বিষয়ে সভায় প্রথম প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সুলতান উল ইসলাম। পরে বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক খলিলুর রহমান, জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. এনামুল হকসহ অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেন।
ভর্তি কমিটির সদস্য ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এনামুল হক সভা স্থগিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন, সরকারি নির্দেশনায় রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দিতে বলা হলেও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই উপাচার্যকে বলেছি সরকারি নির্দেশনা থাকলেও রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তার উপস্থিতিতে আমরা সভা করবো না। উনাকে বাইরে যেতে বলেন তাহলে আমরা সভা করবো। যদি তাকে নিয়ে সভা করতে চান তাহলে আমরা সভা থেকে বের হয়ে যাবো।
তিনি আরও বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের ওই সভায় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রায় ৬০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা এক দুইজন বাদে সবাই বলেছেন, তাকে অব্যাহতি দেওয়ার পর ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা আয়োজন করতে হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষক সমাজের আহবায়ক অধ্যাপক ড. সুলতান উল ইসলাম।
তিনি বলেন, সদস্যদের আপত্তির মুখেও উপাচার্য কিছুতেই রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারীকে রেখে সভা করতে রাজি ছিলেন না। যুক্তিতর্ক দেওয়া শুরু করেন তিনি। তখন বাড়ি দখলে রেখে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার বিষয়টি তুলে আমরা তার উপস্থিতিতেও সভা করবো না বলে জানায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন কি করবেন।
অধ্যাপক সুলতান বলেন, অন্যান্য চিঠি আসলে তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট ডাকেন ছুটির দিনে। নিয়োগ বোর্ড
তড়িঘড়ি করে বসাতে পারেন। তবে রেজিস্ট্রারের অব্যাহতির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ডাকতে পারেননি এই অজুহাত দিচ্ছেন। তার মানে আপনার অনিচ্ছা। তাই আপনার সাথেও আমরা সভা করতে পারবো না।
এসময় সভায় উপাচার্য বলেন, ‘রেজিস্ট্রারের অব্যাহতি বিষয়টি আইনি বিষয়, তড়িঘড়ি করেই নেয়া যায় না। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে এর কাছে এ স্থগিতাদেশের কারণ জানতে চাইবো এবং কিভাবে বিষয়টি সমাধান করা যায়, সে বিষয়টিও আমরা দেখবো। এরপর রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দেয়াসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
এরপর উপস্থিত শিক্ষকদের সবার আপত্তির মুখে সভাটি ১০.৪০ মিনিটে স্থগিত করতে বাধ্যহন উপাচার্য। শিক্ষকরা দাবি জানিয়েছেন, নির্দেশনা মোতাবেক অধ্যাপক এম এ বারীকে অব্যাহতি দিলে যেকোনো সময় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা আয়োজন করতে পারে কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি না দিলে ভর্তি কমিটির সভা হচ্ছে না বলেই জানাচ্ছেন শিক্ষকরা।
সভার বিষয়ে কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, আজকের একাডেমিক কাউন্সিলে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মিটিং হওয়ার কথা ছিল। তবে, সভার শুরুতে অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম ভিসু স্যারের অনুমতি নিয়ে কিছু বলার দাবি জানান। তারপর ভিসি স্যার অনুমতি দিলে তিনি সরকারী আদেশে কেন রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দেন নি তা জানতে চান। সরকারী আদেশ অমান্য করে একজন দুর্নীতিগ্রস্থ রেজিস্ট্রারকে দিয়ে সভার আহ্বান,  চিঠিতে প্রদান করা বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন। তাছাড়া নিয়োগ স্থগিতসহ সরকারী আদেশ পালন না করার বিষয়ে জবাব চান তিনি। পরবর্তীতে অধিকাংশ শিক্ষক তাদের যুক্তিতে সহমত পোষন করেন। এবং শেষ পর্যন্ত ওই রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি না দেয়া পর্যন্ত সভা স্থগিতের দাবি জানান এবং সভা বর্জন করেন।
এবিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম বলেন, আজ সভার শুরুতে রেজিস্ট্রারকে অপসারণে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাস্তবায়নে শিক্ষকরা দাবি তোলা হয়। পরে যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে শুরু হয় হট্টগোল। শিক্ষকরা একের পর যুক্তি দিয়ে এবং সরকারী আদেশ কার্যকর করে রেজিস্ট্রারকে অপসারণের দাবি জানায়। পরবর্তীতে দাবির মুখে সভাটি মুলতবি করা হয়। এবং ভিসি স্যার, সিন্ডিকেটে মিটিং করে দ্রুত এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বস্ত করে
ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সভাটি হঠাৎ স্থগিত হওয়ার কারন জানতে চাইলে বিশ্ববিবিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, অনিবার্য কারনবশত আজকের সভাটি স্থগিত করা হয়েছে। হট্টগোলের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।  সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের মুঠোফোনে করলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও রিপ্লাই করেননি উপাচার্য।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!