প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ২:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১১, ২০২০, ৭:৪৮ পি.এম
দাগনভূঞায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচার ও বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মোঃআবদুল মুনাফ পিন্টু,দাগনভূঞা উপজেলা প্রতিনিধি: দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ৪,৪৭,৪৫৫/- টাকার ভুয়া বিল ভাউচার সৃজনপূর্বক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের কো-অপ্ট সদস্য ও উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলায়েত উল্যাহ স্বপন গত বুধবার (৯ ডিসেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার চক্রবর্তী বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচার, অনিয়ম ও বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
বেলায়েত উল্যাহ স্বপন জানান, ফাজিলের ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি ঐতিহ্যেবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালান করে আসছে। এলাকার শিক্ষাব্রতী ব্যক্তিবর্গের একান্ত সহযোগীতা ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির দক্ষ ও সুযোগ্য পরিচালনায় বিদ্যালয়টি উপজেলার একটি শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার চক্রবর্তী ২০১৬ সালের শেষ দিকে যোগদান করেন। তিনি যোগদান করার পর থেকে শিক্ষার মান অবনতির দিকে যাচ্ছে- যা তাঁর কর্মকালীন সময়ে পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষনে প্রতিয়মান।
বিভিন্ন ব্যয় খাতে প্রধান শিক্ষক ভুয়া বিল ভাউচার সৃজনপূর্বক বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত করছেন মর্মে ম্যানেজিং কমিটির নিকট গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষার জন্য গত ১৭/০১/২০১৯ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির আলোচিত অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ অডিট কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে সম্পন্ন করে অডিট প্রতিবেদন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর দাখিল করেন। অভ্যান্তরীণ অডিট কমিটি দাখিলকৃত প্রতিবেদন গত ১৮/০১/২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভার ৪নং আলোচ্যসূচিতে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার চক্রবর্তী সভায় দুঃখ প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়মের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামাল পাশা স্বেচ্ছায় সভাপতির দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন। তা কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। ফলে বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি না থাকায় কার্যত কমিটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সভাপতি ইস্তফা প্রদান করায় বিদ্যালয়ের রেকর্ডপত্র সাত দিনের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য গত ২৫/১০/২০২০ তারিখে বোর্ড কর্তৃক নির্ধেশনা প্রদান করা হলেও প্রধান শিক্ষক উক্ত নির্দেশনা অমান্য করে আজঅব্দি পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেননি।
ম্যানেজিং কমিটির কার্যত কোনো ভূমিকা বা কার্যক্রম না থাকায় প্রধান শিক্ষক তাঁর ইচ্ছেমত বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন এবং কাহারো নিকট জবাবদিহিতা করতে হচ্ছে না। এদিকে সভাপতি পদত্যাগ করায় ম্যানেজিং কমিটির অপরাপর সদস্য, এলাকার সুশীল সমাজ এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রাণের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার তানিয়া জানান, ‘এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার চক্রবর্তীর বলেন, অভিযোগের বিষয়ে লোকমুখে শুনেছি। একখনও নোটিশ পাইনি। বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ।
এবিষয় নিয়ে আমি স্কুলের প্রস্তাবিত সভাপতি মোঃ বেলায়েত হোসেনের সাথে আগামী শনিবার কথা বলে মতামত জানাব। সাবেক সভাপতি কামাল পাশার পদত্যাগের বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার কারনে তিনি পদত্যাগ করেননি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কোভিড ১৯ এর কারনে শারিরীক সুস্থতাজনিত কারনে স্বেচ্ছায় সভাপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর বাহিরে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারব না।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.