
নারায়ণগঞ্জে একটি মাদক নিয়াময় কেন্দ্র থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় শাহাদাত (৪০) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন তাকে মারধরসহ মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ফতুল্লা’র জালকুড়ি এলাকার দিপ্তি মাদকাসক্ত নিরাময় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে তাকে উদ্বার করে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়।
শাহাদাত শহরের ডনচেম্বার এলাকার মৃত হাবিবুল্লাহ মাস্টারের পুত্র এবং অগ্রনী ব্যাংকের টানবাজার শাখার ম্যানেজার বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক খোকন (৪৩)কে আটক করা হয়েছে। খোকন সদর থানার ৬৫ নং বি,কে রোডের মৃত আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে।
শাহাদাতের ভাতিজা ইয়াসিন জানায়, শনিবার বিকেল ৪ টার দিকে ৮/১০ জন লোক তার চাচাকে মারতে মারতে টেনে হিচড়ে বি,কে,এম,ই লেখা একটি সাদা মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-৮৩১৬) তুলে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ সদর থানাকে অবগত করার পাশাপাশি ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে। পরে পুলিশ তার চাচাকে রাত সাড়ে তিনটার দিকে জালকুড়ির দিপ্তি মাদকাসক্ত নিরাময় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে উদ্বার করে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়।
ঘটনার শিকার ব্যাংক কর্মকর্তা শাহাদাত জানান, বি.কে.এম.ই লেখা সাদা মাইক্রোবাসে করে তাকে নিয়ে গয়ে হাত-পা বেধে ব্যাপক টর্চার করে এবং তারা তার মাথা ন্যাড়া করে দেয় এ সময় তারা তাকে ইনজেকশন পুশ করারও চেষ্টা করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এস,আই শামীম জানায়, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা দিপ্তি মাদক নিরাময় চিকিৎসাSet featured image কেন্দ্র থেকে আহতবস্থায় ব্যাংকার শাহাদাতকে উদ্বার করি। সে সময় সে চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে খোকন নামের একজনকে আটক করি।
এ বিষয়ে গোপন একটি সুত্র জানায়, শাহাদাতের স্ত্রী পারিবারিক কলহের জের ধরে তাকে মাদকাদক্ত আখ্যায়িত করে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য আবেদন করে। তাই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন তাকে মাইক্রোবাসে করে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে শাহাদাতের স্ত্রী সাউথ ইস্ট ব্যাংক’র ঢাকা মতিঝিল শাখায় কর্মরত রওশন আরা জানান, তার স্বামী একজন মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগী। তার স্বামী তাকে নিয়মিত মানসিক এবং শারিরীক নির্যাতন করতো উল্লেখ করে তাকে বিকৃতি চরিত্রের বলে দাবী করেন তিনি।