প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ৮:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৩, ২০২০, ৪:১৯ পি.এম
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গোপনে কাঁশাহার জামে মসজিদের একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা

এম.এ রাশেদ, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গোপনে কাঁশাহার জামে মসজিদের একাউন্ট জনতা ব্যাংক চন্দনবাইশা শাখা থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলনের বিরুদ্ধে অত্র মাদ্রাসার সভাপতি সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা দায়ের। এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কাঁশাহার গ্রামে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায় কাঁশাহার জামে মসজিদ ভাঙ্গণের কবলে পড়ায় উক্ত মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে মুসুল্লিদের মদ্ধে মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন গংয়ের সাথে একই গ্রামের মৃত খোদা বক্স আকন্দের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক গংয়ের মদ্ধে মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন গং চাইছেন মসজিদটি সেখান থেকে ভেঙে অন্যত্রে স্থানান্তর করে নতুন মসজিদ নির্মাণ করতে। অপর দিকে আবু বক্কর সিদ্দিক গংয়ের দাবি মসজিদটি উক্ত স্থানে রেখেই সংস্কার কাজ করা হোক।
এনিয়ে দু পক্ষ মুসুল্লিদের মদ্ধে দির্ঘদিন যাবত টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। পরবর্তীতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টায় বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করেও কোন ফল হয়নি। পরবর্তীতে মসজিদ না ভাঙার পক্ষে আবু বক্কর সিদ্দিক বাদি হয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাসেল মিয়ার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাসেল মিয়া সরে জমিনে গিয়ে তদন্ত করে দুপক্ষ মুসুল্লিদের সাথে কথা বলে মসজিদের নগদ অর্থ স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির বন্টন নামা করে দেন।
নতুন মসজিদ করার পক্ষের মুসুল্লিদের ৭০% ভাগ আর বর্তমান মসজিদ সংস্কার কাজ করতে তাদের ৩০% ভাগ বন্টননামা কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদাইদুল ইসলাম কে বাস্তবায়ন করার দায়ীত্ব প্রদান করেন। সেই সুযোগে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন চেয়ারম্যান হেদাইদুল ইসলামের সহযোগীতা নিয়ে অন্যপক্ষ কে না জানিয়ে জনতা ব্যাংক চন্দনবাইশা শাখা থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।
এই তথ্য জানার পরে আবু বক্কর সিদ্দিক বাদি হয়ে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন কে প্রধান আসামী করে মোট ১৬ জনের নামে জেলা বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারিয়াকান্দি আমলী আদালত-০৫ এ উক্ত মসজিদের টাকা আত্বসাৎ মামলা দায়ের করেছেন। যাহার মামলা নম্বর ৪৮-২০২০ সারিয়াকান্দি। আবু বক্কর সিদ্দিক আরো বলেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন কোন প্রকার রেজুলেশন ও সরকারী অনুমতি ছারাই জোরপূর্বক ভাবে কাঁশাহার এবতেদায়ী মাদ্রাসার মাঠ থেকে ১৬ টি বনজ ও ফলজ গাছ কর্তন করে বিক্রি করেছে।
এবং সেখানে জমি দখল করে মসজিদ স্থানান্তর করার পায়তারা করছেন। তিনি আরো বলেছেন আমাদের প্রাণ থাকতে কাঁশাহার জামে মসজিদ কাউকে ভাঙতে দিবোনা। গাছ কাটা বিষয়ে কাঁশাহার এবতেদায়ী মাদ্রাসার সুপারের সাথে কথা হলে তিনি জানান মাদ্রাসার জমিতে মসজিদ নির্মাণ ও গাছ কর্তন বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।মাদ্রাসার সভাপতি নুর আলম ও মসজিদের সভাপতি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন আমাকে কোন কিছু না জানিয়ে তারা জোরপূর্বক এই সকল কাজ করে যাচ্ছেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.