প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ১১:১৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৩, ২০২০, ৬:৩৩ পি.এম
শরণখোলায় একটি হত্যা মামলাকে পুঁজি করে ফায়দা হাসিল ও লুটপাটে লিপ্ত বাদীপক্ষ

মোঃনাজমুল ইসলাম সবুজ শরণখোলা প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি হত্যা মামলাকে পুঁজি করে ফায়দা হাসিল ও লুটপাটে লিপ্ত হয়েছে বাদীপক্ষ। আসামীদের নিরীহ স্বজনদের অবরুদ্ধ করে রেখে তাদের ঘেরের মাছ, বাড়ির মালামাল, খড়ের গাদা লুট ও দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। এঘটনায় চরম ভীতির মধ্যে দিন কাটছে পুরুশূণ্য ওই পরিবারের নারী ও শিশুদের। কেউ তাদের পক্ষে কথা বললে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আসামীদের স্বজনরা।বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের পূর্ব ধানসাগর গ্রামে গেলে এসব অভিযোগ সত্যতা পাওয়া যায়।তবে, পুলিশ বলছে অবরুদ্ধ বা লুটপাটের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার পূর্ব ধানসাগর গ্রামে ছাগলে ধানের বীজ খাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষে জাকির জমাদ্দার (৫৩) মারা যান। এঘটনায় স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাত জনকে আসামী করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দুই নারী জেলহাজতে এবং অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আসামী সেলিম জমাদ্দারের বাড়িতে তার স্ত্রী নাছিমা বেগম কুয়েত প্রবাসী ছেলের বউ জান্নাতী বেগম ও দুই বছরের নাতী আরাফাতকে নিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। গরুর খাবার সংগ্রহেও বের হতে পারছেনা তারা।এসময় কথা বলার জন্য একজন পুরুষও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্য আসামীদের বাড়িতে কোনো লোকজন নেই।
সেলিমের স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, ছেলের বউ আর নাতী নিয়ে থাকেন কিন্তু রাত হলে ঘরের আশপাশে লোকজনের আনাগোনায় ভয়ে ঘুমোতে পারেন না। নিহত জাকিরের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির তাদেরকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। তাদের দোকানেও তালা লাগিয়ে দিয়েছে বাদী।বাদীর লোকজনের ভয়ে কেউ তাদের সহযোগিতায় এগিয়েও আসে না। এব্যাপারে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিহতের ভাই হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখি নাই। অন্য কোনো মানুষ হলে এতোদিন আসামীদের বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন করে দিত। আমরাতো তার কিছুই করি নাই। মামলার বাদী শিউলী বেগমের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমার স্বামী কবরে পঁচতে আছে। সেই জন্যে সেলিমের দোকানে আমি নিজে তালা লাগিয়ে দিছি।যাতে আমার স্বামীর মতো দোকানের মালমাল পঁচে যায়। আমার গরুকে খাওয়াতে আসামী মন্টুর খড়ের গাদা নিয়ে নিয়েছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলতাফ হোসেন বলেন, আমি চাই হত্যার বিচার হোক। কিন্তু এখানে আসামীদের নিরীহ লোকজনকে হয়রানী করা হচ্ছে। নিহতের ভাই হুমায়ুন ও তার ছেলে-ভাইপোরা আসামীদের ঘেরের মাছ ও গাছের নারকেল জোর করে নিয়ে যাচ্ছে। একটি খড়ের গাদা বিক্রি করে দিয়েছে। সেলিমের স্ত্রী-পুত্রবধুকে বাড়ি থেকে বরে হতে দিচ্ছেনা। এসব বিষয়ে নিষেধ করায় তারা আমাকেও হুমকি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শরণখোলার থানার ওসি (তদন্ত) মফিজুর রহমান শেখ লুটপাটের অভিয়োগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, এব্যাপারে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.