
শাহজাহান সিরাজ, গাইবান্ধা : ঘরে স্ত্রী সন্তান থাকার পরও সাংবাদিকতার দাপট দেখিয়ে ফুসলিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধু পরিবারের এক মেয়েকে ৫ লক্ষ টাকা ৩ ভরি স্বর্ণসহ ভাগিয়ে নিয়ে দীর্ঘ এক মাস পর কোর্টে এফিডেভিটের মাধ্যমে মুসলমান বানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আনন্দ টেলিভিশনের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি মিলন খন্দকার। বর্তমানে মান সম্মান আর সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে নিজ ঘরেই গুমরে গুমরে কাঁদছেন গাইবান্ধার ঐ সাধু পরিবারটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মিলন খন্দকার এক সময় ডিসি অফিস চত্বরে হকারী করতো। সেখান থেকে একজন আইনজীবির সাথে সখ্যতা গড়ে দুই বছর মহুরী হিসেবে কাজ করে আইনের কিছু ধারা শিখে নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। অনেকেরই ধারণা এই ধুরন্ধর মিলন খন্দকার খুব সম্ভব এসএসসি পাশ না হয়েও ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ তৈরি করে দৈনিক জনতা, আনন্দ টেলিভিশন এবং রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক দাবানল পত্রিকার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিত্ব নিয়েছেন।
সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড গলায় ঝুঁলিয়ে এই মিলন খন্দকার মাদক কারবারীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। কিছুদিন আগে চাঁদাবাজী করতে গিয়ে গাইবান্ধার রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দের হাতে গণধোলাই খায় এই মিলন খন্দকার। এরপর একটি বিয়ে বাড়িতে গিয়ে বাল্য বিয়ে হচ্ছে বলে মোটা অংকের টাকা দাবী করায় উত্তেজিত জনতা কর্তৃক এই সাংবাদিকের ক্যামেরা ভাংচুর,
গণধোলাই দিয়ে ঘরে আটকিয়ে রাখলে অবশেষে স্থানীয় পত্রিকার এক সম্পাদকের অনুরোধে থানা পুলিশ গিয়ে এই সাংবাদিককে উদ্ধার করে। তাছাড়া এই সাংবাদিক মিলন খন্দকারের বিরুদ্ধে একাধিক নারী ক্যালেঙ্কারীর ঘটনাসহ খারাপ নারীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট চালানোর গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। এসব বিষয়ে জানতে শহরের ভিএইড রোডে সাংবাদিক মিলন খন্দকারের ভাড়া বাসায় একাধিকবার গিয়েও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।