প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ৩:০৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০, ১২:৪৭ পি.এম
বগুড়া শেরপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায়ের অভিযোগ!

এম.এ রাশেদ বগুড়া প্রতিনিধিঃ মহামারী করোনা সংক্রমণের এই দুঃসময়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে টিউশনসহ অন্যান্য ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ফি দিতে ব্যর্থ হলে আদায় করা হচ্ছে জরিমানাও। এছাড়া টিউশন ফি দিতে না পারায় অনলাইন ক্লাশ থেকেও শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এমনকি ওই প্রতিষ্ঠানের আদায়কারিরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও টিউশনসহ অন্যান্য ফি আদায়ে চাপ প্রয়োগ করছেন। এতে অনেক অভিভাবক সামর্থ্য না থাকলেও অনেকটা বাধ্য হয়ে করোনার মধ্যেই পূর্ণ বেতন পরিশোধ বাধ্য হচ্ছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা কওে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন কর্মকাÐে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের কোন ফি বকেয়া থাকে না। তাই এই প্রতিষ্ঠানটি বছরে লাখ লাখ টাকা লাভ করে। অথচ বৈশি^ক মহামারীর এই দুঃসময়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। টিউশনসহ নানা ফি আদায় করে চলেছেন তারা। মজনু মিয়া, আব্দুল মান্নান, আশুতোষ, কারিমুল ইসলাম, শরীফ আহমেদসহ একাধিক ভুক্তভোগী অভিভাবক বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মার্চ থেকে টিউশন ফি পরিশোধ করা হয়নি।
কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দফায় দফায় বকেয়া টিউশনসহ অন্যান্য ফি পরিশোধে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বার বার তাগিদ দিয়ে মোবাইলে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। এমনকি তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও আদায়কারিরা বকেয়া রশিদ ধরিয়ে দিচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ফি পরিশোধ করা না হলে বিলম্ব ফি ছাড়া এসব টাকা জমা নেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এসব অভিভাবকরা জানান, করোনায় অধিকাংশ পরিবারই অথনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই মার্চ-এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বকেয়া টিউশন বাবদ এতগুলো টাকা একবারে দেয়া কারও পক্ষেই সম্ভব না।
পর্যায়ক্রমে কিস্তি করে টাকা দিতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ মানতে নারাজ। এছাড়া স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবহনের বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। কিন্তু টিউশন ফি’র সঙ্গে বাস ভাড়াও নেয়া হচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক। এমনকি এ যেন মরার ওপর খাঁরার ঘা-বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা। এরপরও বাধ্য হয়েই ধার-দেনা করে প্রতিষ্ঠানের সব বকেয়া পরিশোধ করেছেন বলে জানান এসব অভিভাবকরা। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে করোনাকালীন সময়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে বলা হয়েছে। চাপ প্রয়োগ করে কোন ফি আদায় না করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই টিউশনসহ বিভিন্ন ফি আদায় করা হচ্ছে- এটি অত্যান্ত অমানবিক বলে অখ্যায়িত করেছেন শেরপুর নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষন কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু। বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চাইলে আরডিএ’ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সেখ আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, করোনায় টিউশনসহ অন্যান্য ফি আদায় করা যাবে না- সরকার বা মন্ত্রণালয়ের এমন কোন নির্দেশনা নেই।
তাছাড়া শিক্ষার্থীদের বেতনসহ অন্যান্য খাত থেকে যে টাকা আদায় করা হয় তা থেকেই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যয় মেটানো হয়। তাই দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন নিতে পারিনি। এজন্য শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বকেয়া পড়ে গেছে। ফলে বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য অভিভাবকদের বলা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.