প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ১:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০, ১০:৫৪ পি.এম
জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের জলাশয় মুক্ত অভিযান

রবিউল হাসান লায়ন,জামালপুর: দীর্ঘ কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারনে সদর উপজেলার কয়েকশত একর জমি তলিয়ে গেছে। পানি বের হয়ে যাওয়ার জন্য যে কয়েকটি খাল রয়েছে সেটাও দখল করে নিয়েছে মৎস শিকারীরা। খালের মাঝে জাল ও বাঁধ দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ মাছ শিকার করে আসছে। যার কারনে খালের পানি নিষ্কাশন হতে বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষকের কথা চিন্তা করে জলাশয় মুক্ত করার অভিযানে নামে সদর উপজেলা প্রশাসন। জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর ও দিগপাইত ইউনিয়নের প্রায় ১০-১২টি বাঁধ ভেঙ্গে দেয় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।
বুধবার সকালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিনের নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা বেগম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সলেমুজ্জামান, নারায়নপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ মিয়া সহ শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আয়ূব আলী খান, দিগপাইত ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, কেন্দুয়া ইউপি সদস্য মোঃ মোতালেব হোসেন, আমিনুল ইসলাম স্বপন, সমাজ সেবক খোরশেদ আলমের উপস্থিতিতে এ সকল বাঁধ ভেঙ্গে জলাশয় মুক্ত করেন। শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিস সংলগ্ন প্রায় ৪টি বাঁধের কারনে বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন কেন্দুয়া ও শাহবাজপুর ইউনিয়নের কয়েক’শ কৃষক। তারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি দ্রুত জলাশয় মুক্ত করার জন্য অভিযানে নামেন। অভিযানে নেমে তিনি উপস্থিত থেকে প্রতিটি বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
সেই সাথে পুনরায় কেউ যেন বাঁধ দিতে না পারে সেইজন্য সকলকে সতর্ক করেন। এছাড়া দিগপাইত ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে জলাশয়ে বাধঁ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছিল কয়েকজন ব্যক্তি। বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা বেগম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সলেমুজ্জামান, দিগপাইত ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান উপস্থিত থেকে বাঁধ খুলে দেন। সেই সাথে দিগপাইত ইউনিয়নের পূর্বপাড় দিঘুলী গ্রামের কয়েকটি জলাশয়ের বাঁধ খুলে দেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, কেউ জলাশয়ে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারবে না। এ ধরনের অপরাধ কেউ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা বেগম বলেন, সকল জলাশয় মুক্ত রাখার জন্য আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। যদি কেউ জলাশয়ে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.