
আবু সাঈদ সজল, রাবি: চত্বরের নাম টুকিটাকি হলেও পাওয়া যায় সবকিছু। প্রায় ৩৫ বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটি হয়ে যায় টুকিটাকি চত্বর।
রাবি ক্যাম্পাসের উল্লেখযোগ্য আড্ডার প্রাণকেন্দ্র ধরা হয় এই টুকিটাকি চত্বরকে। এ চত্বরে চায়ের কাপের টুংটাং শব্দে শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় চারপাশ মেতে উঠতো সারাক্ষণ। কিন্তু করোনা সেই আনন্দঘন মুহুর্তগুলোর বুকে ভাঁটা ফেলেছে। জনজীবনে নেমেছে ক্লান্তির অমানিশা। এদিকে ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ায় কর্মহীন হয়ে দুরূহ জীবন যাপন করছেন টুকিটাকি চত্বরের অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কর্মচারিরা।
জানতে চাইলে চত্বরের হোটেল ব্যবসায়ী বাবু মিয়া বলেন, আজ পাঁচ মাস, ক্যাম্পাসে যেতে পারি না। নেই হোটেল ঘরটি। সেই ছোট্টকাল থেকে ক্যাম্পাসের গন্ডিতেই কাটিয়ে আসছি শৈশব, কৈশোরে ও বার্ধক্যের এই জীবনটা। শত শত শিক্ষাক ও শিক্ষার্থীর সংস্পর্শে থেকে পেয়েছি স্নেহ ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। প্রতিদিন হাজারো তারুণ্যের সংস্পর্শে থেকে নিজের মধ্যে কখন বার্ধক্যের ছাপ খুঁজে পাইনি।
নিজের জীবনের সবটুকু সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সেবায় অতিবাহিত করে এসেছি। দিনশেষে যেটুকু আয় রোজগার হয়েছে। সেটুকু দিয়েই বড় আনন্দে দিন কেঁটেছে। কোন দিন লাভের দেখা না মিললেও শিক্ষার্থীদের হাসিখুশি মুখগুলো দেখে ভুলে গিয়েছি দুঃখের কথাগুলো। কিন্তু ক্যাম্পাসবিহীন এই পাঁচ মাসে যেন আজ নিজেকে অনেক বৃদ্ধ মনে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, খেয়ে না খেয়ে কাটছে দিন। ক্যাম্পাসের হোটেলটাই ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। করোনার কারনে সেটাও আজ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃদ্ধ বয়সে এসে তেমন আর কোন কাজও করতে পারি না। দিনে দুমুঠো খেয়ে বাঁচা টাও যেন আজ দুরূহ হয়ে পড়েছে।
টুকিটাকি চত্বরের হোটেলবয় রনি বলেন, কোনরকম খেয়ে, না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন কাজকর্মহীন থাকায় অভাব অনটনে ধার-দেনা আর সাহায্য সহযোগিতায় দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। টুকিটাকি চত্বরের কম্পিউটার দোকানদার আতাবুল ইসলাম বলেন, অর্ধ অনাহারে কাঁটছে দিন। প্রতিটি মুহুর্তই যেন আজ হতাশা আর দুর্বিষহে ভরপুর। রাত কাটে উৎকন্ঠায়। দীর্ঘ ৬ মাসে জীবনকে যেন নতুন করে আবিষ্কার করেছি। অভাব অনটনে বিপর্যস্ত জীবন কাটছে প্রতিনিয়ত। কবে আবার শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত হবে টুকিটাকি চত্বরেটি? কবে আবার দুঃখ দুর্দশা মুক্ত একটা ভোরের দেখা পাব? এই প্রত্যাশায় প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাই।