
আবু জাহের, শেরপুর (বগুড়া) থেকে : বগুড়ার শেরপুরে কাঁচাবাজারের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় মধ্যবিত্তদের মাথায় হাত। ক্রেতা এসে কাঁচা মরিচের দাম জিজ্ঞেস করতেই কাঁচা বিক্রেতা আসাদুল জানালেন আড়াই শ গ্রাম ৬০ টাকা। একটু কম রাখা যায় কি না জানতে চাইলে বিক্রেতা বললেন, ‘অন্য দোকানে গেলে আরো বেশি দিয়ে কিনতে হবে। মুলামুলি করার সুযোগ নাই।’
বিক্রেতার এমন কথায় একটু বিরক্ত বোধ করলেও ক্রেতা ৬০ টাকা দিয়েই আড়াই শ গ্রাম মরিচ কিনলেন। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২৪০ টাকা। অন্যান্য কাঁচা বাজারের দাম বাড়ছে ১০ থেকে ২০ টাকা। ক্রেতা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁচা মরিচের দাম কয়েক দিনে তিন গুণেরও বেশি হয়ে গেছে। কী আর করা, না কিনে তো উপাই নেই।’ আর বিক্রেতা আসাদুল জানান, বন্যার কারণে মরিচের দাম বেড়েছে। দাম বেশি বলে ক্রেতারা আগের চেয়ে কম করে মরিচ কিনছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শেরপুর রেজিষ্ট্রি অফিস বাজার ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৪০টাকা ও পাইকেরি ২২০ বিক্রি হচ্ছে। এসব নিত্যপণ্যের দাম পাইকারি বাজারের চেয়ে ১০ থেকে ৪০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। গত ১৫-২০ দিন আগেও বাজারে দাম ছিল কাঁচা মরিচ ৬০-৮০টাকা বর্তমানে ২৪০টাকা, পিয়াজ ৩৫ বর্তমানে ৫০টাকা, আলু ২৫ বর্তমানে ৫০টাকা, পোটল ৪০ বর্তমানে ৬০টাকা, বেগুন ৫০ বর্তমানে ৬৫টাকা, করলা ৫০ বর্তমানে ৮০টাকা বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দামের সঙ্গেও বেড়েছে চালের দাম। অপরদিকে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ব্রয়লার মুরগীর দাম। বয়লার মুরগি ১শ ৪০ টাকা। রেজিষ্ট্রি অফিসে বাজার করতে আসা ক্রেতা মাসুদ বলেন, নিত্যপণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। আর কাঁচা মরিচের দামেরতো কথায় নাই। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। নিত্যপণ্যের দামে নিজেকে খুব অসহায় লাগছে।
পাইকারি বিক্রেতা বটতালা এলাকার ছানোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারিতে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২২০-২২৫ টাকায়। তারা জানায়, বগুড়া, ধুটন, কাজীপুর, রাজশাহী, রংপুর, থেকে মরিচ আসছে। তবে তা পরিমাণে অনেক কম। বন্যার কারণে অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এবং পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণ হচ্ছে এলসি আসছে না।
পাইকেরি বিক্রেতা অনেকে বলেন, ‘বৃষ্টি ও বন্যার কারণে মরিচক্ষেত নষ্ট হওয়ায় আমদানি কমে গেছে। সে জন্য নিত্য পন্য কাঁচাবাজারের দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে আমরা কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে কেনার কারণে বগুড়ারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বেশি দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে।’
শেরপুর উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর ছামিদুল ইসলাম জানান, বাজারে কোন কাঁচাবাজারের ঘারতি নেই, চাহিদা মত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু একটি অসাধু ব্যবসায়ীরা বৃষ্টি ও বন্যার কারণ দেখে দাম বৃদ্ধি করেছে।
শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: শারমিন আক্তার জানান, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে দামও বেড়েছে। এবার উপজেলায় ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছিল। এ মৌসুম জুনের শেষে দিকে শেষ হয়ে যায়।
বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতাদের কাছে মরিচের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে। তার পরও এত বেশি দাম কেন জানতে চাইলে বিক্রেতা বক্কার জানান, বন্যার কারণে মরিচের সরবরাহ কমেছে। এ কারণে দেশি মরিচের দাম বেড়ে গেছে। এ জন্য বিক্রিও করতে হচ্ছে চড়া দামেই।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান