
এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আগানগর ইউনিয়নের ছাগাইয়া গ্রামে গ্রাম্য অবকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে ছাগাইয়া বালির মাঠে এই মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বর্ষার মৌসুমে বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শনের জন্য নৌ পথে দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে ভৈরব ফেরীঘাট থেকে রওয়ানা হয় উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সায়দুল্লাহ মিয়া। যাত্রা পথে আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রাম পরিদর্শনের সময় এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে সেখানে সায়দুল্লাহ মিয়া প্রাইমারী স্কুলটি আগামী জানুয়ারী মাসে সরকারী করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
মতবিনিময় সভায় আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোমতাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মো: সায়দুল্লাহ মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ মো: হেলাল উদ্দিন, চট্রগ্রাম রিজিওন জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ, ভৈরব উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভপতি ও ভৈরব প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন কাজল, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জাহাঙ্গীর, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, ভৈরব পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ভৈরব প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস,এম, বাকি বিল্লাহ , উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম -আহবাহক ইকবাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন জামাল প্রমুখ। এছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
মত বিনিময় সভার শুরুতেই এলাকাবাসীর পক্ষে প্রধান অতিথির নিকট ২৫ টি দাবী পেশ করেন ভৈরব উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব বিষয়ক সম্পাদক মো: সেলিম মিয়া। এসময় চট্টগ্রাম রিজিওন টুরিস্ট পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ বলেন শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। গ্রামের সহজ-সরল কৃষকের সন্তানেরাই এখন উচ্চ পদসমূহে চাকরি করছে। আপনার ছেলেও একদিন বড় সরকারী কর্মকর্তা হবে এটা আমার বিশ্বাস। আর সেজন্য দরকার লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া। আপনাদের চেষ্টা থাকলেই জজ হেলাল মহোদয়ের মত আরো অনেক অফিসার এই গ্রামের তৈরী হবে বলে বিশ্বাস করি।
গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নে ময়মনসিংহ জেলা দায়রা জজ হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের ছাগাইয়া গ্রামটি যেহেতু নদীর পাড়ে অবস্থিত সেহেতু এখানে বেড়িবাঁধ তৈরী এখানে অর্থনৈতিক জোন তৈরী করা যায়। এতে করে আমাদের গ্রামের বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এখানে একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারলে আমাদের এলাকাটি আরো উন্নত হবে বলে মতামত পেশ করেন তিনি।
প্রধান অতিথি মোঃ সায়দুল্লাহ মিয়া বক্তব্যে বলেন আপনাদের প্রতিটি দাবী এমপি বরাবর লিখিত আকারে দিতে হবে। ভৈরব টু ছাতিয়ানতলা পর্যন্ত বেড়ি বাধের জন্য ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়ে গেছে। একটি মেডিক্যাল কলেজ হবে তবে সরকারী নয় বেসরকারী। হেলাল উদ্দিন সাহেবের নামে স্কুলটি আগামী বছর জুন মাসে সরকারী করণ করা হবে। তাছাড়া আপনারা যেসব দাবী পেশ করেছেন, প্রত্যেকটি দাবী পূরণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।