হোম » প্রধান সংবাদ » বাজিতপুরের অটোচালক রাব্বি হত্যা মামলার আসামীরা গ্রেফতার

বাজিতপুরের অটোচালক রাব্বি হত্যা মামলার আসামীরা গ্রেফতার

এম আর ওয়াসিমঃ বাজিতপুরের নিলখী হাফানিয়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর অটোচালক রাব্বী হত্যা মামলার প্রধান আসামী হৃদয় @ সাচ্চু (২০)সহ ০৬ জনকে আটক এবং চুরি যাওয়া অটোবাইকটি উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্প। র‍্যান সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই ২০২০ ইং তারিখ ২১.০০ ঘটিকার সময় কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের নিলখী হাফানিয়া গ্রামের মোঃ লিলু মিয়ার ছেলে অটোচালক মোঃ রাব্বী মিয়া (২০) কে অটোবাইক সহ অপহরণ করিয়া নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনা অবগত হওয়ার পরে র‍্যাব-১৪, সিপিসি-৩, ভৈরব ক্যাম্পের গোয়েন্দা দল হাফানিয়া গ্রামে নিবির ভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজে নেমে যায়।

 

পরবর্তীতে নিখোঁজের প্রায় ১ সপ্তাহ পরে গোয়েন্দা দলের কাছে খবর আসে ঐ গ্রামের মনির হোসেন এর বসত বাড়ীর সেফটি ট্যাংকির ভেতরে রাব্বির লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর থেকে র‍্যাবের গোয়েন্দা দল তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং ঘৃনীত ঘটনার সহিত যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার জন্য দিন রাত নিরলস ভাবে কাজ করে যায়। ১৪ জুলাই লাশ পাওয়ার পরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং হত্যা মামলায় হৃদয় ওরফে সাচ্চু ও আরো ৭ জনসহ অজ্ঞাত নামা আসামীসহ বাজিতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা রুজুর পর থেকে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট আসামীগণ এলাকা হতে উধাও হয়ে যায়।

 

পরবর্তীতে র‍্যাবের গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, মামলার প্রধান আসামী হৃদয় ওরফে সাচ্চু মিয়া এলাকা থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানাধীন অলংকার নামক এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করছে। এরই প্রেক্ষিতে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এবং স্কোয়াড কমান্ডার উপ-পরিচালক চন্দন দেবনাথ এর নেতৃত্বে র‍্যাব-১৪, সিপিসি-৩ ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানাধীন অলংকার নামক এলাকা হতে ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকায় মামলার প্রধান আসামী হৃদয় ওরফে সাচ্চু (২০), পিতা-বাদল মিয়া, সাং-নিলখী হাফানিয়া, থানা-বাজিতপুর, জেলা- কিশোরগঞ্জকে আটক করা হয়। আসামী হৃদয় ওরফে সাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় অটো ছিনতাই এই চক্রের প্রধান কাজ। ছিনতাইয়ের কাজে বাধা প্রদান করলে হত্যাকান্ড ঘটাতেও দ্বিধাবোধ করে না। হৃদয় ওরফে সাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদে অটোছিনতাই ও রাব্বী  হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করা হলো।

রাব্বী হত্যার মূল কাহিনীঃ  মূলত ৭ জুলাই ঘটনা ঘটার ৭-৮ দিন পূর্ব থেকে  হৃদয় ওরপ সাচ্চু (২০), পিতা-বাদল মিয়া,  দুলাল মিয়া (৫০), পিতা- মৃত নুরুল ইসলাম ওরফে চান্দু মিয়া, আজিজুল (২৪), পিতা-মিলন মিয়া,  মাসুম মিয়া(২৩), পিতা- আঙ্গুর মিয়া, বিল্লাল জামাই বিল্লাল (২৪), পিতা- অজ্ঞাত, শ্বশুর- মিলন মিয়া,  ইয়াছিন (২৫), পিতা-গিয়াস উদ্দিন,  সরোয়ার (১৯), পিতা-দুলাল মিয়া,  কাইয়ুম (২০), পিতা- রমজান মিয়া সর্ব সাং-নিলখী হাফানিয়া, থানা-বাজিতপুর, জেলা- কিশোরগঞ্জরাসহ আরো কয়েক জন ছিনতাইকারী মিলে বাজিতপুরের নিলখী হাফানিয়া ঈদগাহ বসে রাব্বীর অটোবাইকটি ছিনতাইয়ের একটি গোপন পরিকল্পনা করে।

 

কিন্তু তারা ৭-৮ দিনের মধ্যে রাব্বীকে অটোবাইকসহ একা না পেয়ে অটোবাইকটি ছিনতাই করতে পারেনি। পরবর্তীতে ৭ জুলাই রাত আনুমানিক ২১.০০ ঘটিকার সময় সাচ্চু, ইয়াছিন, আজিজুল, মাসুম-রাব্বীকে ফোন করে অটোবাইকসহ ঈদগাহ মাঠে ডেকে নিয়ে আসে। ঈদগাহ মাঠের পাশে বালুর মাঠে ১০-১২ জন এর নেতৃত্বে রাব্বীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে এদেরই কয়েক জন মিলে মনিরের বাড়ীর সেপটি ট্যাংকির ভেতরে রাব্বীর লাশ রেখে আসে।

অটো বাইক বিক্রয়ের সাথে জড়িত চক্রঃ অটোবাইক ছিনতাইয়ের পরে এদের মধ্যে থেকে ৩-৪ জনের একটি গ্রুপ অটোবাইক বিক্রয়ের জন্য সাদ্দাম ও জুটনের সাথে বিক্রয়ের ব্যাপারে যোগ সূত্র স্থাপন করে যাদের কাজ হলো শুধু মাত্র অটোবাইক বিক্রয় করে টাকা নিয়ে আসা। সাচ্চু , ইয়াছিন, আজিজুল ও মাসুম অটোবাইকটি সাদ্দাম ও জুটনের কাছে

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!