
রুহুল আমিনঃ বন্ধু বা বন্ধু নন এমন যারাই লেখাটি পড়বেন প্রশ্ন করতে পারেন লেখাটি এতো ছোট ছোট করে কয়েক দিন বা কয়েক পর্বে করার কি দরকার ছিল। কয়েকটি কারনের মধ্যে যদি বলতে থাকি তাহলে বলতে হয় প্রথমতঃ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। এরপর সময় সুযোগ আর বর্তমান সময়ে পাঠককূলের অনীহা।
আজকাল কিছু পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও মানুষ পড়তে চায়না। চলমান ঘটনা নিয়ে এ লেখা। ফেসবুক বন্ধুর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। তালিকায় শ্রমিক, শ্রমিক নেতা, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, বড় বড় শিক্ষিত, অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন বিভিন্ন প্রকৃতির বন্ধুরাই রয়েছেন কিন্তু পড়ুয়ার সংখ্যা দেখলে হতাশ হতে হয়। আবার উৎসাহের দিকটাও একেবারে শূন্য নয়। দু’একজন বন্ধু ফোন করে বলেন লিখবেন। যাহোক লেখাটি আজকের পর্বেই শেষ হয়ে যাবে এটা নিশ্চিত।
ইতিমধ্যে টিভি চ্যানেল, পত্র পত্রিকা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জেনেছি সেজান জুস শ্রমিক গণহত্যার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে, যারা পাননি তাদেরও দেয়া হবে।
৫২টি তাজা প্রাণ ঝড়িয়ে দিয়ে এখন বিভিন্ন জেলায় জেলায় গিয়ে মৃত সন্তানের বাবা-মাকে কিছু টাকা দিচ্ছেন। একইভাবে পূর্বের শ্রমিক গণহত্যার ঘটনায়ও মালিকপক্ষ নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দেখিয়ে গাঝাড়া দিয়ে দাড়িয়ে যান। প্রশ্ন হলো ক্ষতিপূরণ কি এবং কতো।
ধরা যাক একজন মৃত শ্রমিকের বয়স ৩০। (সিজানের অনেকেই ছিল শিশু শ্রমিক) মালিকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে যা হত্যাকান্ড। এই শ্রমিক শ্রম আইন অনুযায়ী ৬০ বছর কাজ করতে পারতেন। এখন ধরা তিনি দশ হাজার টাকা মজুরি পেতেন। তাহলে বছরে ১২০,০০০/= টাকা যা পরের ৩০ বছরে ৩৬ লক্ষ টাকা। মজুরী বৃদ্ধি, অন্যান্য সুবিধাসহ তা দাঁড়াবে দিগুণ। তাহলে ৭২ লক্ষ টাকা।
জীবন অমূল্য টাকায় তা মূল্যায়ন হতে পারে না। আর তা যদি অবসান হয় অবহেলায় তাহলেতো তা অবশ্যই ক্ষমার অযোগ্য। সবকিছু কাটছাঁট করে দিতে চাইলেও কোন অবস্থায় জনপ্রতি ৫০ লক্ষ টাকার কম হতে পারে না।
সিজান জুসের শিশু শ্রমিকদের হত্যা করা হয়েছে। শিশু শ্রমিক নিয়োগের অপরাধে আইন অমান্য করা বা মারাত্মক দূর্ঘটনার প্রতিবেদন দাখিল না করার অপরাধে সরকার থেকে যে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে তারা মনে করেন তাতেই তাদের দায়িত্ব শেষ হয়েছে। এটাই এদেশে স্বাভাবিক।
১৯৯০ সনের ২৭ ডিসেম্বরে সারাকা গার্মেন্টসে যোগ ২৬ জন শ্রমিক হত্যা সাথে মালিকের স্বেচ্ছামৃত্যুর পরে ২০১০ সন থেকে লাগাতার হত্যাকান্ডে কতজন শ্রমিককে হত্যা করা হলো কে দেবে তার কৈফিয়ত।
মালিকের অবহেলায় এই মৃত্যুর মিছিল। এই লাশের দায় মালিক এবং সরকারের। মালিক আর সরকার যৌথভাবেই এই শ্রমিকদের হত্যা করা হয়েছে।
সবশেষে আমরা বলবো এমন একদিন আসবে সেদিন শ্রমিক শ্রেনী এই হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলবে তুই আমার ভাইয়ের হত্যাকারী। হত্যাকারীর শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
জয় হোক মেহনতী মানুষের।
শ্রমজীবী জনতা, গড়ে তোল একতা।
৪র্থ ও শেষ পর্ব।

আরও পড়ুন
মালায়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী
হাইকোর্টে একদিনে নিষ্পত্তি ২ হাজার ৪২৫ পুরোনো মামলা
৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রওনা হবেন রোববার