
— জমি নিয়ে বিরোধে রক্তাক্ত পরিণতি, বিচার পেলো চৈতননগরের পরিবার
আওয়াজ অনলাইন রিপোর্ট
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে চার বছর পর বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। বুধবার (৩০ জুলাই) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনকে যাবজ্জীবন এবং আরও ১৭ জনকে ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এজলাস কক্ষে এই রায় ঘোষণা করা মাত্রই আদালতপাড়ায় নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। নিহত সুমেলের পরিবারের সদস্যরা আদালতের বাইরে কেঁদে বুক ভাসান—“আমরা বিচার পেয়েছি, তবে ছেলে আর ফিরবে না।”
ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত: সাইফুল, নজরুল, সদরুল, সিরাজ, জামাল, শাহিন, আব্দুল জলিল ও আনোয়ার।
যাবজ্জীবন: ইলিয়াছ, আব্দুন নুর, জয়নাল, আশিক, আছকির, ফরিদ ও আকবর।
২ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত: আরও ১৭ জন।
পলাতক: মামুনুর রশীদ।
বিশ্বনাথের চৈতননগর গ্রামের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম গুলি চালালে নিহত হন দশম শ্রেণির ছাত্র সুমেল মিয়া। তার বাবা নজির উদ্দিন, চাচা মানিক মিয়াসহ আরও তিনজনও গুলিবিদ্ধ হন। জমির রাস্তা কেটে নেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা থেকে শুরু হয় রক্তাক্ত সংঘর্ষ।
ঘটনার পরপরই নিহত সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজিল বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ১৩ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
ঘটনার মূল হোতা সাইফুল আলম ২০২১ সালের ঘটনার পরপরই আটক হন। তখন থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। মামলার অপর আসামি মামুনুর রশীদ এখনও পলাতক।
এই রায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারই নয়, জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ হারানো নিরীহদের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এলাকাবাসী বলছে, “চৈতননগরের বিচার দেখে আমরা আশ্বস্ত হলাম, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।”