
আওয়াজ অনলাইন: ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবির থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। রবিবার ওই অঞ্চলে অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে। শিশুসহ আহত হয়েছে আরও শতাধিক মানুষ।
বুধবার একটি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ ইসরাইলের দিকে ছোড়া পাঁচটি রকেট ভূপাতিত করেছে তারা। তবে কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন তাৎক্ষণিকভাবে এ দায় স্বীকার করেনি।
এদিকে জেনিন থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার সাথে সাথে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার আরও একজন ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। এ অভিযানে মোট ১২ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে।
এর আগে রবিবার রাতে জেনিনে প্রথম হামলা চালায় ইসরাইল। জেনিনে হামলা চালাতে এক হাজারেরও বেশি ইসরাইলি সেনা সোমবার ওই অঞ্চলে প্রবেশ করে। তাদের সহায়তায় পাঠানো হয় সাঁজোয়া যান, বুলেডোজার ও স্নাইপার। এছাড়া জেনিনের বিভিন্ন ভবনে হামলা চালাতে ব্যবহৃত হয় ড্রোন ও যুদ্ধবিমান।
এ হামলার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরে ধর্মঘটের ডাক দেয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। শরণার্থী শিবির থেকে তিন হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে স্থানীয় হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইসরাইলের দাবি, "সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামোতে আঘাত" এবং জেনিন ক্যাম্প এলাকায় "বিস্তৃত সন্ত্রাস দমন" করতেই এ অভিযান।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরাইলি বাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা চালাতেই এ অভিযান চালিয়েছে। নতুন করে যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি সেনাদের এ বর্বরোচিত হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের মুখপাত্র ভেনেসা হুগেনিন বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে যে পরিমাণ বিমান ও স্থল অভিযান চলছে এবং একটি ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে যেভাবে বিমান হামলা চলছে তাতে আমরা শঙ্কিত।