
আওয়াজ অনলাইন: রাশিয়ার ভূখণ্ডে ওয়াগনার আরও একটি শহর দখল করে নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
শনিবার কয়েকটি রুশ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, রাজধানী মস্কো ও দখল করা রোস্তভ-অন ডনের মাঝামাঝি অবস্থিত ভোরোনেজ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে ওয়াগনার সেনারা।
এর আগে, শুক্রবার ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া রোস্তভ-অন-ডন শহরের দখল নিয়ে নেয় ওয়াগনার বাহিনী।
ভোরোনেজ শহরটি রাজধানী মস্কো থেকে ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার সঙ্গে দেখা না করলে মস্কোর দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রিগোজিন।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শনিবার জাতীয় উদ্দেশে ভাষণ দেন।
ওয়াগনার গ্রুপের বিদ্রোহকে ‘পিঠে ছুরি মারা’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। কারও কারও উচ্চ আকাঙ্ক্ষা তাদের গভীর রাষ্ট্রদ্রোহিতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
ভোরোনেজ শহরের কর্মকর্তারা এখনও প্রকাশ্য দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেকসান্দ্র গুসেভ সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলে সাঁজোয়া যানের অগ্রগতি সম্পর্কে অনেক ভুয়া প্রতিবেদন প্রচারিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনী এখন প্রাথমিক ঘোষিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে ভোরোনেজ অঞ্চলে ‘অপারেশন এবং লড়াইয়ের’ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন শনিবার এক অডিওবার্তায় দাবি করেন, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উদ্দেশে তাদের অভিযান চলবে। যদিও ওয়াগনার যোদ্ধারা সত্যিই ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও রুশ সরকার কিছু জানায়নি।
পুতিনের দীর্ঘদিনের মিত্র ও সাবেক হোটেল ব্যবসায়ী প্রিগোজিনের ভাড়াটে বাহিনী রুশ সেনার অংশ নয়। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে তারা রুশ বাহিনীর সহযোগী হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।
অতীতে লিবিয়া, সিরিয়া, মোজাম্বিক, সুদানের মতো দেশে গৃহযুদ্ধেও লড়েছে প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধার এই পেশাদার ভাড়াটে বাহিনী।