
আওয়াজ অনলাইন: তুরস্কে নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনার পারদ চরমে। স্থানীয় সময় বোরবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বিকেল ৫টায় শেষ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কারণ দুই দশক ধরে তুরস্ককে নেতৃত্ব দেয়া রক্ষণশীল রাজনীতিক রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আরও পাঁচ বছরের জন্য তার ক্ষমতা সুরক্ষিত করতে চান।
এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় মেয়াদের জন্য এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বলা হচ্ছে, প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছেন তিনি।
৬৯ বছর বয়সী এই ক্যারিশমাটিক নেতার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা কামাল কিলিচদারোগলু। বিরোধী ছয় দলের সমন্বয়ে গড়া জোট ‘টেবিল এ্যান্ড সিক্সের’ প্রধান মুখ তিনি। আরও কিছু সরকারবিরোধী গ্রুপও কিলিচদারোগলুর প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে।
এ কারণেই মূলত ৭৪ বছর বয়সী সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তা এরদোয়ানের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন।
এবারের নির্বাচনে এরদোয়ান ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে জ্বালানি খাত ও পেনশনে ভতুর্কি এবং সরকারি কর্মীদের বেতন এবং নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবন যাত্রার ব্যয় কমানোর কথা বলেছেন তিনি। এছাড়াও প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির ওপরও জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে তুরস্কের গান্ধী’ খ্যাত এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগলু গত শুক্রবার আঙ্কারায় আয়োজিত এক সমাবেশে ঘোষণা করেন, তিনি দেশে ‘শান্তি ও গণতন্ত্র’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন।
একাধিক জনমত জরিপ বলছে, কামাল কিলিচদারোগলুর বয়স এখন ৭৪ এবং তাকে একজন মৃদুভাষী লোক হিসেবেই মনে করা হয়। ‘তুরস্কের গান্ধী’খ্যাত কামাল ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করে দিতে পারেন। কিলিচদারোগলুর সমর্থকরা মনে করছেন, গত দুই দশক ধরে এরদোয়ান পার্লামেন্টের পরিবর্তে নিজের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন এবং সেই ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার জন্য এবারই সবচেয়ে বড় সুযোগ উপস্থিত। কূটনীতিক থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়া কামাল দাবি করেন, এরদোয়ান তার নিজ স্বার্থ হাসিলে পার্লামেন্টের ক্ষমতা কমিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে পার্লামেন্টের পুরোনো ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবেন।
দেশজুড়ে অসংখ্য ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন প্রায় সাড়ে ৬ কোটি তুর্কি নাগরিক। তিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেবেন তারা। নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। পার্লামেন্টের ৬০০ আসনের বিপরীতে লড়াই করছেন ১৫১ স্বাধীন প্রার্থী।
রোববারের এ নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে তুরস্ক। এমন নাজুক পরিস্থিতির জন্য ব্যাপকভাবে দায়ী করা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের গৃহীত নীতিমালাকে।
এরই মধ্যে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্পের বিষয়। এ সময় তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভবন নির্মাণের নীতি বাস্তবায়নের ব্যর্থতা এরদোয়ানকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলেছে। এই অব্যবস্থাপনার কারণে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
তুরস্কের নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে এককভাবে ৫০ শতাংশ বা এর বেশি ভোট পেতে হবে। এমনটি যদি না হয় তাহলে যে দু’জন প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তাদের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর রানঅফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে কামাল সমর্থকরা আশা করছেন, রানঅফ নয়- কালই এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট তিনি পাবেন। সূত্র:বিবিসি, আলজাজিরা।