
আওয়াজ অনলাইন: জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে গত ১০ বছরে প্রায় তিন হাজার বিলিয়ন টন বরফ হারিয়েছে পৃথিবী। এর অর্থ হলো স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত গলছে মেরু অঞ্চলের বরফ।
জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার নামের একটি জার্নালে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বেশ ক’বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, অতি দ্রুত গলছে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ। এবার তার সত্যতা মিলেছে ইউরোপের স্যাটেলাইট ক্রায়োস্যাট থেকে পাঠানো ছবিতে।
পৃথিবীর ওপর নজর রাখতে ক্রায়োস্যাটকে মহাকাশে পাঠিয়েছিলো ইউরোপ। সেখান থেকে আসা ছবিতে দেখা যায়, গত ১০ বছরে দুই লাখ হিমবাহ নিশ্চিহ্ন হয়েছে। তাতে বরফের পরিমাণ ছিলো দুই হাজার সাতশ বিশ বিলিয়ন টন। এর অর্থ হলো, মাত্র এক দশকেই দুই শতাংশ হারে বরফ গলছে।
বিশ্বের বহু সংখ্যক মানুষ, কৃষি ও খাবার পানির জন্য হিমবাহগুলোর ওপর নির্ভরশীল। শুধু তাই নয়, পৃথিবীকে শীতল রাখতেও সাহায্য করে এসব হিমবাহ। তাই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা হিমবাহের গতি-প্রকৃতির ওপর নজর রাখাটা খুবই জরুরি। আর তাতে নজর রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো স্যাটেলাইট। সেই কাজটিই করছে ক্রায়োস্যাট।
রাডার আল্টিমিটার নামের একটি যন্ত্রের সাহায্যে মাইক্রোওয়েভ পালস পাঠায় ক্রায়োস্যাট। এর সাহায্যে বোঝা যায়, ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা কোথায় কেমন।
ক্রায়োস্যাটের পাঠানো তথ্যে দেখা গেছে, গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি বরফ গলেছে, আলাস্কার হিমবাহ থেকে। প্রায় ৮০ বিলিয়ন টন বরফ হারিয়েছে এই এলাকা। আর এই গলিত বরফের অর্ধেকই মিশেছে সাগরে। তবে এসব ঘটনার জন্য বাতাসের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকেই দায়ী করেছেন বিজ্ঞানীরা।
এভাবে বিপুল পরিমাণ বরফ সাগরে মিশে যাওয়ার ঘটনা চিন্তায় ফেলেছে বিজ্ঞানীদের। তারা বলছেন, বরফ গলা পানি বাড়াচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। আর তাতে হুমকিতে পড়ছে নিম্নাঞ্চলগুলোর অস্তিত্ব।
এই পরিস্থিতি রোধে করণীয় ঠিক করতে দরকার আরো বেশি গবেষণা। তাই এবার ক্রিস্টাল নামের দীর্ঘমেয়াদী স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।