
আওয়াজ অনলাইন: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সাবেক আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন।
মাইকেল কোহেন নামের ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন ট্রাম্প। এজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা পাঁচ হাজার কোটি টাকা দাবি করেছেন তিনি।
গত সপ্তাহে পর্ন তারকাকে ঘুষ দেয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন ম্যানহাটনের একজন প্রসিকিউটর। আলোচিত ওই মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মূল সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন কোহেন।
এরপর থেকেই কোহেনের উপর ট্রাম্প মিত্ররা ক্রমাগত ক্ষোভ ঝেড়ে আসছেন। এরইমধ্যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিজেই মামলা করে বসলেন।
কোহেনের মুখপাত্র ও আইনজীবী ল্যানি ডেভিস বিবিসিকে বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা ব্যর্থ হবে।
ফ্লোরিডা ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, কোহেন তার সাবেক ক্লায়েন্ট, ক্লায়েন্টের পরিবারের সদস্য ও ব্যবসা সম্পর্কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য ছড়িয়েছেন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন কোহেন। তিনি ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্টও ছিলেন। মাইকেল কোহেনকে একসময় প্রায়ই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ’ফিক্সার’ হিসাবে বর্ণনা করা হত, ট্রাম্পের ঝামেলার বিষয়গুলো মিটমাট করতেন কোহেন।
২০১৬ সালের নির্বাচনের পরে ট্রাম্প ও কোহেনের সম্পর্কে শীতলতা দেখা দেয়। সাবেক পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস দাবি করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক ছিল এবং কোহেনের মাধ্যমে তাকে ঘুষ দেয়া হয়।
সাবেক ওই পর্ন তারকার অভিযোগ, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মুখ না খুলতে কোহেনের মাধ্যমে তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অভিযোগ আসার পর থেকেই ট্রাম্প ও কোহেনের সম্পর্কে বড় ধরণের ফাটল দেখা দেয়, কারণ তখন তদন্তকারীরা ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন সহযোগীকে খুঁজতে শুরু করেছিলেন।
২০১৮ সালে, জালিয়াতি ও প্রচারণার অর্থ লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার পরে কোহেনকে তিন বছরের জেল এবং জরিমানা করা হয়েছিল।
জেল খেটে কোহেন এখন কারাগারের বাইরে। জেল থেকে বের হয়েই তিনি ট্রাম্পের একজন উচ্চ সমালোচক হয়ে উঠেছেন এবং সংবাদ অনুষ্ঠানগুলোতে ঘন ঘন অতিথি হয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে তাকে।
কোহেন একটি বই লিখেছেন এবং পডকাস্ট হোস্ট করেছেন- এই দুটি বিষয়ই মামলায় উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
২০২০ সালে প্রকাশিত কোহেনের লেখা বই ডিজলয়্যাল-এ ট্রাম্পকে 'বর্ণবাদী' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
কোহেনের আইনজীবী মিঃ ডেভিস বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'ট্রাম্প আবারও মাইকেল কোহেনের বিরুদ্ধে হয়রানি ও ভয় দেখানোর জন্য বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার ও অপব্যবহার করছেন বলে মনে হচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে তিনি তার আইনি বিপদের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সাক্ষীদের কাছে একটি বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করছেন।'