
আওয়াজ অনলাইন: ইরানের সাবেক মন্ত্রী আলীরেজার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে সেদেশের সরকার। আলীরেজা ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আলীরেজা ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু গুপ্তচরগিরির অভিযোগ ওঠার পর ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান।
জানা যায়, তিনি যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একথা জানা যায়।

যুক্তরাজ্যের হয়ে গুপ্তচরগিরির অভিযোগে আলীরেজাকে ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কয়েকদিন ধরে যুক্তরাজ্য আলীরেজাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ইরানকে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু সেসব চাপ তোয়াক্কা না করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি।
গত বুধবার আলীরেজার পরিবারকে কারাগারে যেতে বলা হয়। ওইদিন পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান তিনি। এরপর তাকে নির্জন রুমে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সপ্তাহে আলীরেজার একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইরান। সেখানে নিজের দোষ স্বীকার করতে দেখা যায় তাকে। তবে বলা হচ্ছে, জোরপূর্বক তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।
বিবিসি পার্সিয়ান বুধবার আলীরেজার একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে। সেখানে আলীরেজা দাবি করেন, তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে গুপ্তচরগিরির অপরাধের স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে, যে অপরাধ তিনি করেননি।
যুক্তরাজ্য ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও আলীরেজার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিল। মার্কিন কূটনীতিক বেদান্ত প্যাটেল বলেছিলেন, ‘আলীরেজার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে বিবেকবর্জিত কাজ। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
আমাদের সকলেরই জানা আছে যে, ইরান দ্বৈত নাগরিককে স্বীকৃতি দেয় না। যুক্তরাজ্য ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে দেয়।
এছাড়া আলীরেজাকে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তারা। এবিষয়েও ইরান নাকোচ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন
নতুন করে লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা
পশ্চিমবঙ্গে বড় জয়ের পথে বিজেপি, এগিয়ে ১৯২ আসনে
ইরানের নতুন প্রস্তাবে খুশি নন ট্রাম্প