
মোঃ মনিরুল ইসলাম: মাত্র ৮৭ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল ভারতপাকিস্থানের মধ্যে চলা ভয়াবহ আকাশ যুদ্ধ কিন্তু তাতেই কেপে উঠেছে দু দেশের অর্থনীতি, সামরিকনীতি ও ভ‚রাজনীতি। কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসা- বানিজ্য, শেয়ারবাজার, বিমানব্যবস্থা, ক্রিড়াঙ্গন ও আমদানী-রপ্তানী এবং থমকে গেছে দুই দেশের নাগরিকদের প্রতিদিনের জীবনযাপন। গোটা
বিশে^র কেন্দ্র্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্থান। পশ্চিমা বিশ্ব তথা পশ্চিমা মোড়লদের চোখ এখন দক্ষিন এশিয়ার আকাশে। গত ৭ মে রাত ১টা ৫ মিনিটে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিযান চালায় পাকিস্থানের ঘুমন্ত মানুষ ও বিভিন্ন স্থাপনা সমূহের উপর, যেটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহুদেশ মৃদু নিন্দা জানিয়েছে। ভারতের রাফায়েল যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয় স্টর্ম শ্যাডো মিসাইল ও হ্যামার বোমা। পাকিস্থানের করাচি, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, গুজরানওয়ালা, চাকওয়াল, মিয়ানওয়ালী ও পাঞ্জাবসহ অন্তত ১০ টি শহর ভারতের অতর্কিত ড্রোন হামলার শিকার হয়।
ভারত একই সঙ্গেরাফায়েল যুদ্ধ বিমান, এসইউ-৩০ ও মিগ-২৯ বিমান এবং ইজরাইলের তৈরী হেরপ ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্থানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে। জবাবে পাকিস্থানও এগুলো ধবংশের জন্য পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে জে-১০সি যুদ্ধবিমান ও কোরাল জ্যামার ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করে।পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্থান ১০ মে ভোররাতে ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুস’ নামে ভারতের ২৬টি সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত ও পরিকল্পিতড্রোন হামলা চালায়। পাকিস্থান সেদিন রাজস্থান, পাঞ্জাব, জম্মুকাশ্মীর, চন্ডিগড়, গুজরাটসহ ভারতের উত্তরও পশ্চিমাঞ্চলের ১৫টি শহরে আক্রমন করে। অমৃতসর ও ফিরোজপুরে বিকট
বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, সাম্বা ও পাঠানকোটেও দেখা গেছে ড্রোন হামলার বিভিন্ন চিহ্ন।পাকিস্থান তুরস্কের তৈরী ড্রোন বায়রাখতার টিবি-২, আকিনজি, আঙ্কা এবং চিনের তৈরী উইংলুং ড্রোনের মাধ্যমে ভারতের মাটিতে আঘাত আনে। পাকিস্থান দাবি করেছে, তারা আকাশযুদ্ধে ইসরায়েলের তৈরি ৭৭টি ভারতীয় ড্রোনও পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভ‚পাতিত করেছে, যার মধ্যে তিনটি ছিল উন্নত প্রযুক্তির রাফায়েল জেট বিমান, একটি এসইউ-৩০ ও একটি মিগ-২৯ বিমান। ফরাসি গোয়েন্দা সূত্রও জানিয়েছে, পাকিস্থান অন্তত একটি ভারতীয় রাফায়েল জেট বিমান গুলিকরে নামিয়েছে। পাকিস্থান আরও দাবি করে, তারা ভারতের ব্রাহ্মাঅস্ত্রাগার ধবংশ করে দিয়েছে, একটি এস ৪০০ ব্যাটারী ইউনিট এবং ২ টি বড় সামরিক ঘাটিতে আঘাত করেছে। এই প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের তৈরী অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান রাফায়েল হামলার শিকার হয়ে ধবংশ হলো, এর আগে এই বিমানকে কেউ ভ‚পাতিত করতে পারে নাই।
আর এই অত্যাধুনিক রাফায়েল যুদ্ধ বিমানগুলি ধবংশের যুদ্ধে বলতে গেলে একাই নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্থানের এক সাহসী নারী পাইলট স্কোয়ান্ড্রন লিডার আয়েশা ফারুকি। এই চৌকস ও বুদ্ধিদীপ্ত পাইলট এবং পাকিস্থানের জাতীয় বীরে পরিনত হওয়া আয়েশা ফারুকির বীরত্বগাথা ও রাফায়েল যুদ্ধ বিমান ধবংশের খবর ফলাও করে প্রচার করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, কাতারসহ পশ্চিমা বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমগুলো। যেটাকে পাকিস্থানের অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে একোন সন্দেহ নেই। অন্যদিকে ভারত উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে পাকিস্থানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও রাডার স্টেশনে ভারতের ব্যাপক বিমান হামলায় বড় ধরনের ক্ষতির প্রমাণ দেখানোর একটা চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতের দাবি, তারা পাকিস্থানের তিনটি বিমান ঘাটিতে আক্রমন করেছে, এগুলি হলো নূরখান ঘাটি, রফিকী ঘাটি এবং মোরাই ঘাটি। লাহোরের একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও রাডার ষ্টেশন ধবংশ করে দিয়েছে বলে ভারতের দাবী।
ভারত পাকিস্থানের টানা প্রায় তিন দিনের সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছে দুদেশের শতাধিক সামরিক বেসামরিক মানুষ, ধ্বংস হয়েছে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্নস্কুল, কলেজ ওনানা প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে ডোনান্ড ট্রাম্প ও তার সরকার শান্তির দূত হিসেবে দুদেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বন্ধ করতে পেরেছে বৈকি।যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে ফিরে এসেছে শত্রুপ্রতিম দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত আর পাকিস্থান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই প্রথম জানিয়েছিলেন যে, পুরোদমে যুদ্ধে জড়াচ্ছে না দুই দেশ, কারণ দুই পরমাণু শক্তিধর সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে গেছে। অথচ এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুই দেশের সংঘাতে হস্তক্ষেপ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তাহলে এরপর কী এমন ঘটল যে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা করল? এ নিয়েই চলছে নানামুখী আলোচনা, বিশ্লেষন ও ক‚টনীতিক সমতাকরনের চেষ্ঠা।
সিএনএনের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের কাছে ভয়াবহ গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল, যেটি নিয়েজেডি ভ্যান্স নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পুরো বিষয়টি জানান। এরপরই ভ্যান্স প্রধানমন্ত্রী নরেন্দমোদিকে ফোন করে ভয়াবহ গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবহিত করেন এবং মোদিকে সরাসরি পাকিস্থানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং উত্তেজনা কমানোর বিকল্পগুলো বিবেচনা করতে আহবান জানান। ফোনে এই কথোপকথনের পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো ১০ মে রুবিও ভারত ও পাকিস্থানের সঙ্গে রাতভর কথা বলেন। তাও তিনি কথা বলেন ফোনের মাধ্যমেই এবং এই যাত্রায় রুবিও ফোন করেন পাকিস্থান সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনিরকে। সিএনএন জানিয়েছে, মোদি-ভ্যান্স ফোনালাপই ছিল পরিস্থিতি বদলের প্রধান মুহূর্ত। এরপর দুই দেশের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা একে অপরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং সমস্ত সামরিক হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে পৌঁছান। এখানে ভয়াবহ গোয়েন্দা রিপোর্টটি কি সেটি মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ করেনি।
তবে এক্ষেত্রে যে কারনগুলি আমলে নেওয়ার মতো তা হতে পারে প্রথমতঃ পাকিস্থান হয়তো পারমানবিক যুদ্ধের দিকে যাওয়ার একটি ইঙ্গিত দিয়েছিল। দ্বিতীয়তঃ এই যুদ্ধের ডামাডোলে চীন হয়তো ভারতের অরুনাচল প্রদেশ ও কাশ্মীর সীমান্তে ঢুকে পরতে চেয়েছিল। তৃতীয়তঃ মার্কিন প্রশাসন কোন ভাবেই চায়নি চীন এই যুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়–ক বা এই যুদ্ধে কোনভাবে লাভবান হোক। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ‘পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছে’ এমন শিরোনাম ভেসে ওঠে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেন, কাশ্মীরে পর্যটক হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ভারতের সামরিক অভিযান সন্ত্রাসীদের জন্য এক শক্ত বার্তা ছিল।অন্যদিকে পাকিস্থানের রাজধানীতে মানুষ রাস্তায় নেমে বিজয় উদযাপন করে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, ‘আমাদের সাহসী সেনাবাহিনী এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের জেট ভারতীয় বন্দুকের আওয়াজ থামিয়ে দিয়েছে’। বস্তুত, উভয় দেশের রাজনীতিবিদ ও সেনা কর্মকর্তারা নিজেদের সুবিধামতো তথ্য উপস্থাপন করলেও এই সংঘর্ষে প্রকৃত বিজয়ী কে সেটা বলা খুব বেশী কঠিন কিছু নয়।আকাশ প্রযুক্তির এই যুগে উন্নত বিশে^র গণমাধ্যমগুলো কিন্তু ভারতের যুদ্ধ জয়ের দাবিগুলোর কোন সত্যতা খুজে পাচ্ছেনা বরং ভারতের বিমান হারানোর খবরএবং যুদ্ধের রণকৌশলে পরাজয়ের খবরই ঘুরে ফিরে তীব্র হচ্ছে। যুদ্ধে দুই দেশের মোট ক্ষতি হয় ৮৭ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি)।
ভারতের স্টক মার্কেট, আকাশপথ ও বিনিয়োগে বড় ধরনের পতন ঘটে। ৮৭ ঘণ্টা ২৫ মিনিট ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ভারতের নিফটি ৫০ ও বিএসই সেনসেক্স সূচকসমূহ মিলিয়ে ৮২ বিলিয়ন ডলার মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন হারায়। উত্তর ভারতের আকাশপথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য বিমান ক্ষতি হয়।ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) স্থগিত হওয়ায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় টিভি স্বত্ব, টিকিট বিক্রি ও বিজ্ঞাপন থেকে। সামরিক অভিযানে খরচ পড়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার, রাফাল যুদ্ধবিমানের ক্ষতির মূল্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার। পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ায় ক্ষতি দাঁড়ায় ২ বিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানো ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) কমার ফলে প্রভাব পড়ে অতিরিক্তভাবে। ভারতের মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার (১০ লাখ কোটি টাকার বেশি)।
অন্যদিকে, একইভাবে একই সময়ে পাকিস্থানের মোট ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার (৪৮ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বেশি)। যদিও এই সংঘাতে পাকিস্থানের চেয়ে ভারতের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ গুণ বেশি তবু পাকিস্থানের জন্য এই ক্ষতিও অনেক বড় ক্ষতি হিসেবেই দেখতে হবে।যুদ্ধ পরিচালনায় ভারতের প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি মার্কিন ডলার। আপর দিকে পাকিস্থানের প্রতিদিন সামরিক ব্যয় হয়েছে দেড় কোটি ডলার। ভারতের অর্থনীতির জন্য সংঘাতের প্রভাব নানাভাবে ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। এতে তাদের জিডিপিতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আগে থেকেই অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্থানের জন্য জিডিপি ক্ষতি হবে ২৫ বিলিয়ন। এ ছাড়াও মুদ্রাবাজার ও মুদ্রানীতি সংকট ১৫ বিলিয়ন ও বাণিজ্য ক্ষতি ১২ বিলিয়ন। তাদের মোট ক্ষতি দাঁড়াতে পারে ৫৭ বিলিয়ন ডলারের।
২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। এই ঘটনার দায়ে ভারত পাকিস্থানকে সরাসরি দায়ী করে এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। পাকিস্থান অবশ্য এদায় অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী করে তবুও ভারত একতরফাভাবে এই দায়ভার পাকিস্থানের উপরই চাপিয়ে দেয়। পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মতো পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে ভারতের অভ্যন্তরে মোদী সরকারের উপর চাপ বাড়তে থাকে। মোদী চাপের কারনে হোক আর উগ্রো হিন্দুত্ববাদ রক্ষার্তে হোক কিংবা নিজেদের সামরিক শক্তির দম্ভে হোক পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অনেকের মতে মোদী সরকার সরাসরি যুদ্ধে নাগিয়ে ভিন্ন কৌশলে পাকিস্থানের উপর চাপ বাড়াতে পারতো। অবশ্য পেহেলগামের ঘটনার দায় পাকিস্থানের উপর জোরকরে চাপিয়ে দিতে নারাজ অনেকেই নারাজ ছিলেন।
কারন পাকিস্থানের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কুটনৈতিক যে অবস্থা তাতে করে তারা এরকম একটি ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে এমনটি হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ও স্বাধীনতাকামী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠি বহুবছর ধরেই এধরনের কাজের সাথে যুক্ত রয়েছে। কাশ্মীর অঞ্চলে এধরনের ঘটনা এর আগেও বহুবার ঘটেছে। তাছাড়া পাকিস্থান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধ এরিয়ে চলার জন্য খুবই রক্ষনার্থক কৌশলে সীমান্ত রক্ষা করে চলেছে। অনেক সময় ভারতের ছোট খাটো হামলার শিকার হলেও তারা তা গোপন করে পাল্টা আক্রমনে যাওয়া থেকে বিরত থেকেছে। তাই এই ঘটনার দায় একতরফাভাবে পাকিস্থানকে দেওয়াটা কতটুকো ন্যায্যতার মধ্যে পরে সেটি নিয়েও প্রশ্ন করার সুযোগ রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল এই যুদ্ধে কার লাভ হয়েছে- ভারতের নাকি পাকিস্থানের। সেটি নিয়ে হয়তো আরও কিছুদিন তর্ক চলবে, তবে এই যুদ্ধে ভয়াবহ লাভ হয়েছে চীন,তুরস্ক,ইজরাইলও ফ্রান্সের। চীন যুদ্ধ না করেও তাদের তৈরী জে-১০ সি সিরিজের আধুনিক যুদ্ধ বিমানের সফলতা ও সক্ষমতা যাচাই করতে পেরেছে ভালভাবেই। চীন তাদের তৈরী বিভিন্ন ড্রোন, মিজাইল এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জামের সফলতা দেখাতে পেরেছে এই যুদ্ধের মাধ্যমে। আবার ভারতের বাস্তব সামরিক শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা তারা ভালভাবেই যাচাই করার সুযোগ পেয়েছে, যেটা অদূর ভবিষ্যতে তাদের কাজে দেবে।
ভারত পাকিস্থানের এই যুদ্ধ তুরস্ক ও ইজরাইলের তৈরী ড্রোনগুলিকে অন্য লেবেলের ব্রান্ডিংএ পৌছে দিয়েছে। এক্ষেত্রে ফ্রান্স কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও তাদের সামনেও রয়েছে রাফায়েল যুদ্ধ বিমানের আরও আধুনিকায়নের সুযোগ। আগামী ৫/১০ বছর এই দেশগুলি যুদ্ধ সরঞ্জাম ও ড্রোন বিক্রি করে যে আয় করবে তা দিয়ে অন্তত ৩০ বছর আরাম আয়াসে চলতে পারবে। ভারত পাকিস্থান যুদ্ধের আরও একটি বড় বার্তা হল আকাশ প্রযুক্তি ও ড্রোন প্রযুক্তি যাদের হাতে থাকবে তারাই আগামীতে বিশ^কে শাসন করবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সিএনএন, বিবিসি, আলজারিরা, রয়টার্সপ্রভৃতি গণমাধ্যমগুলোর খবরে পাক-ভারত যুদ্ধের যে সকল তথ্য, উপাত্ত ও চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে তাতে কিন্তু ভারতের খুশি হওয়ার মতো কোন খবর খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা বরং পাকিস্থানের প্রবল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ভারতের রাফায়েল যুদ্ধ বিমান ধবংশের খবর এবং আকাশ জয়ী আয়েশা ফারুকির বীরত্বগাথাই ঘুরে ফিরে দেখা যাচ্ছে।
অতীতের মতো পাকিস্থান আবারো প্রমাণ করেছে, তাদেরকে হারানোর মতো যতেষ্ট শক্তি ও সক্ষমতা ভারতের এখনো অর্জন করা সম্ভব হয় নাই বরংযে দম্ভ আর অহংকারে ভারত পাকিস্থানের উপর হামলা করেছিল, পাকিস্থান দাঁতে দাঁত রেখে তার জবাব ভালভাবেই দিতে পেরেছে।মোটা দাগে বলতে গেলে এই যুদ্ধে ভারতের যে পরাজয় ঘটেছে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা।তবে ভারতের পরাজয়ের চেয়েও বড় পরাজয় হয়েছে মোদির। উগ্র হিন্দুত্ববাদ জাগ্রত রেখে ও যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্থান বিরোধী জনগনের আবেককে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে কৌশল মোদি নিয়েছিলেন তা ভারতের মানুষের কাছে বুমেরাং হয়েছে।ভারতের জনগনের কাছে নরেন্দ্র্র মোদি এখন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধের দামামা ডোনাল্ড ট্রাম্প থামিয়েছে কিন্তু ভারতীয় জনগনের দামামা থামাবে কে?এযুদ্ধের কারনেনরেন্দ্র মোদি তার ক্ষমতা ও অস্তীত্ব দুটোই হারাবে এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
লেখক, কলামিস্ট ও ব্যাংকার