
আওয়াজ অনলাইন: গাম্বিয়া’র পর এবার অভিযোগ উজবেকিস্তানের। ভারতে বানানো সিরাপ খেয়ে ডজনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ করেছে উজবেকিস্তান
মধ্য এশিয়ার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ভারতের ওষুধ নির্মাতা কোম্পানি মেরিয়ন বায়োটেক প্রাইভেট লিমিটেডের বানানো সিরাপ খেয়ে তাদের দেশে অন্তত ১৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
কোম্পানির ওয়েবসাইটে সিরাপটি ঠাণ্ডা ও জ্বরের লক্ষণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বলে বলা হয়েছিল, অথচ ডক-১ ম্যাক্স সিরাপ খাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৮ শিশুই তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গেছে, বলেছে তারা।
উজবেকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কুয়ারাম্যাক্স মেডিকেল এলএলসি নামের একটি কোম্পানি উজবেকিস্তানে এই সিরাপ আমদানি করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো বলছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বাড়িতে শিশুদের ওই সিরাপ সেবন করতে দেওয়া হয়েছিল, হয় তাদের বাবা-মা বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শে। এটি পরিষ্কার নয় যে, সব শিশু স্ট্যান্ডার্ড ডোজের চেয়ে বেশি গ্রহণ করেছে কিনা।
এ ঘটনায় উজবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া বা অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট ৭ জনকে বরখাস্ত করেছে।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা উজবেকিস্তানের রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেউ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এ ধরনের অভিযোগের পর ওষুধের মান নিশ্চিতে ভারতের কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সারাদেশে কিছু ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করা শুরু করেছে।
২০১২ সালে উজবেকিস্তানে নাম নথিভুক্ত করায় ম্যারিয়ন বায়োটেক। তাদের সরবরাহ করা সর্দি-কাশির সিরাপ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উজবেকিস্তান সরকার।
এর আগে গাম্বিয়ায় সর্দি-কাশির সিরাপে অস্বাভাবিক মাত্রায় ডাইথিলিন গ্লাইকল এবং এথিলিন গ্লাইকলের উপস্থিতির কারণে কিডনি বিকল হয়ে প্রায় ৭০ জন শিশুর মৃত্যু হয়। তবে সে সময় ভারত সরকার ও কোম্পানিটি এ দায় অস্বীকার করে।
গত অক্টোবরে গাম্বিয়ার ওই ঘটনার অভিযোগ ওঠে ভারতীয় সংস্থা মেইডেন ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি চার ধরনের কাশির সিরাপের দিকে। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস অ্যাধানম গেব্রিয়েসুস সংবাদ সম্মেলন করে ওই সংস্থার তৈরি সর্দি-কাশির সিরাপ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেন।
সূত্রঃ একাত্তর টেলিভিশন