হোম » শিরোনাম » ধর্মের নামে যারা আগুন, ভাঙচুর, লুটপাট করছে -রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী কঠিন শাস্তি দেওয়া হউক

ধর্মের নামে যারা আগুন, ভাঙচুর, লুটপাট করছে -রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী কঠিন শাস্তি দেওয়া হউক

  আব্দুর রাজ্জাকঃ এই বাংলাদেশ কারো কাম্য নয়,ধর্ম যদি এত নিষ্ঠুর হয়, তাহলে কি ভাবে সাধারণ মানুষ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। ধর্মের নামে যারা হিন্দুদের ঘরে আগুন, ভাঙচুর, লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর কোন ভাষা নেই। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝি পাড়া

গ্রামের ছোট বসতির হিন্দুধর্মাবলম্বী ৬৭টি পরিবারে যে নাটকীয় কান্ড ঘটিয়ে গেল,তা সেই ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি সামরিক বর্বরতাকে হার মানিয়ে গেছে।পাকিস্তানিরা ছিল ভীনদেশী, তারা বাংলাদেশকে শাসন, শোষণ প্রক্রিয়া চালু রাখার জন্য এই দেশের নিরীহ বাঙালিকে হত্যা অগ্নি সংয়োগ করেছিল। কিন্তু এখন আমার দেশে এক বাঙালি অন্য জাতিস্বত্বা উপর নির্যাতন করছে। তাও আবার পাকিস্তানি কায়দায় ধর্মের দোহাই দিয়ে।এটা কোন দিন মেনে নেওয়া যায় না। আবার পুরোনো শকুনেরা তান্ডব কান্ড শুরু করছে এই স্বাধীন বাংলাদেশে। এই ঘটনার পিছনে যারা পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে তাদেরকে রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী কঠিন শাস্তি দেওয়া হউক।

যারা আমার মা, ভাই -বোনদের উপর নির্যাতন করছে, বাড়ী -ঘর, মন্দির, মুদি দোকান পুড়ে দিয়েছে, দূর্বৃত্তরা লুট করেছে তাদের গবাদিপশু,স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রিক সহ অন্যান্ন ব্যাবহারিক জিনিস পত্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৈনিক প্রথম আলোতে (১৯/১০/২১) অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন ; কেউ বলেছেন “আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা” (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী),” শৈথিল্য না দেখিয়ে কঠোর হোন” (হাসানুল হক ইনু), “দাঙ্গা- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা – এটা ক্ষমতাসীনদের মদত ছারা সম্ভব নয়” (মির্জা ফখরুল ইসলাম), “ধর্মকে অপব্যবহারের যেকোন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন” (২৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক), যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে-” সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সব ঘটনার তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রদান”, “আমরা দুঃখিত, লজ্জিত, হতভম্ব ” ( সুলতানা কামাল), “গভীর রোগে দরকার শক্তি শালী ঔষধ “-(সৈয়দ মনজুর ইসলাম), “মন্দিরে হামলা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত ” ডিইউজে, সর্বশেষ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো “বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন “।অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছে , তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই এই ধর্মীয় উন্মাদনা একটি জাতির জন্য চরম আত্মহত্যার সমান, একটি জাতীকে তার ঐতিহ্য থেকে মুছে ফেলার মহা অপঔষধ। যেখানে প্রতিনিয়ত ফেসবুক – ইউটিউব, ধর্মীয় জনসভায়, শুক্রবারের জুম্মায় , বাংলাদেশর নির্দিষ্ট কিছু মসজিদে সাম্প্রতিক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে; আর তা মোবাইল কানের কাছে নিয়ে রাস্তা ঘাটে, হাট- বাজারে সাধারণ জনগন তন্ময় হয়ে শুনছে, যে দেশে বাসে চলার পথে গাড়ী চালাতে ড্রাইভার বা সিএনজি চালক ইসলামিক ওয়াজের নামে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য শুনছে, যে দেশে কৃষক কাজ করার সময় কোমরে মোবাইল গুজে তার পছন্দের মওলানার সাম্প্রদায়িক বক্তব্য শুনছে – সেখানে এই জাতীর সাম্প্রদায়িকতার মত গভীর রোগে কি ঔষধ থাকতে পাড়ে? যেখানে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সুচিন্তিতভাবে আজ দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ধীরে ধীরে জনগণের মন ও মননে কাজী হিসেবে কাজ করছে।

যেখানে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে স্বপ্ন রেখে তালেবানী শাসনের পদচারণ হচ্ছে।যেখানে সমাজতান্ত্রিক চিন্তা ধারণাকে নাস্তিকতার ব্যাখা প্রদান করা হচ্ছে। যে দেশে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে দেবতায় বিশ্বাস যোগ্য প্রার্থী হিসেবে পরিগনিত করা অপচেষ্টা করা হচ্ছে। যে দেশে বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শোষণ প্রক্রিয়ার সূতিকাগার নিউক্লিয়াস হিসেবে কাজ করছে। যে দেশে ৪০ লক্ষ নারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা এখনও কৃতদাসীর মত তার শ্রম বিক্রয় করছে। সে দেশে কোন নৈতিকতার স্বার্থে বা ধর্মীয় অনুশাসনে বা কোন শিক্ষা ব্যবস্থায় – সাম্প্রদায়িক বীজ দূর করা সম্ভব হবে? এটা একটা বড় প্রশ্ন এই জাতীর কাছে। তার পর সবার উপর রাজনৈতিক সংস্কৃতি – পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় এই সাম্প্রদায়িক বক্তব্য বা গোষ্ঠীর পুনঃপুন প্রতিস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে কাজ করবে।

অন্ধত্ব উন্মাদনা বিস্তার এবং যুক্তিহীন বক্তব্য এই জাতিকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে আপোষহীন কার্যক্রম সমাজে থাকার দরকার ছিল তা দীর্ঘ দিন ধরে অনুপস্থিত যা সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের সর্বত্র খুঁজে পাওয়া দুরূহ। কাজেই আমার ধারনা সাম্প্রদায়িকতা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে ; আমরা যতই সাময়িকভাবে এর প্রতিকার করতে চেষ্টা করছি, ততই দিন এর মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার কারন সাম্প্রদায়িকতার মূল উপাদান গুলো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী খপ্পরে। আমরাও ধর্মীয় লেবাস থেকে বাহির হতে পারছি না বা ধর্মের সঠিক উপলব্ধি গ্রহণে অবাধ্যতার পরিবেশ।

যে শিক্ষা মানব অন্তর বিকশিত করতে অপারগ, সে শিক্ষা কোন দিন মানব কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে না। কাজেই এক দিকে পারিবারিক সুশিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সাম্প্রদায়িকতার বিরোধী নৈতিক মনোবলের সমষ্টিগত সচেতনতা বৃদ্ধি। মাওলানারা ইসলামের নামে যে খুশী ওয়াজ করবে – সাম্প্রদায়িকতার সুরসুরি দিবে, যোদ্ধা অপরাধীরা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির নামে জনগণকে ধোঁকা – বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে আর আমরা মুখে আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকবো বা কোন প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলাবো না তা কখনও হয় না।

এই সমাজকে বাঁচতে হলে, হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চর্চাকে ধরে রাখতে হলে,শোষণ হীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে হলে, স্বাধীন দেশে মক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রগতিশীল চিন্তার গোষ্ঠীকে সাম্প্রদায়িকতার সহিংসতার বিরুদ্ধে আপোষহীন ভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলা দরকার।আসুন আমরা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ থেকে চির তরে সাম্প্রদায়িক মুছে ফেলার চেষ্টা করি।

আর যেন কোন শক্তি ৩০ মিনিটের তান্ডবে পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝি পাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়কে নিঃস্ব হতে না হয়। প্রশাসনিক দুর্বলতা যেন কোথায়ও না ঘটার সুয়োগ থাকে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে কেউ যেন সাম্প্রদায়িকার ঘটনা ঘটানোর ইচ্ছা প্রকাশ না করে বা কোন

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!