হোম » বিনোদন » অসমাপ্ত ভ্রমণ: শাহজাহান সিরাজ সবুজ

অসমাপ্ত ভ্রমণ: শাহজাহান সিরাজ সবুজ

সারারাত আমি আর আমার সহধর্মিণী জেগে আছি। দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ টিম খুব ভোরে উত্তর বঙ্গের জেলা প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা করতে হবে। আমিও সফর সঙ্গী। এই নিয়ে আমার ভিতরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস, আনন্দ। দীর্ঘদিন পরে সহকর্মীদের সাথে ভ্রমণে যাবো, ভিতরে ভিতরে ব্যাপক উত্তেজনা, উৎসাহ কাজ করছে। অন্যদিকে উৎকন্ঠায় গ্রাস করছে আমাকে। বউ ভীষণ অসুস্থ। নিজের হাতে খেতে পারেনা। ফ্রোজেন সোলডারের কারণে হাত দুটি অনেকটা অচল। কয়েকমাস যাবত্ একজন গৃহকর্মীর জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করছি। কিছুতেই পাচ্ছিনা। চেনা-জানা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়- স্বজন কেউ একজন গৃহকর্মীর ব্যবস্থা করতে পারেননি। অস্থায়ী ভিত্তিতে একজন গৃহকর্মী আছে। আমার দরকার একজন স্থায়ী গৃহকর্মী। এদিকে পত্রিকার পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রামে যেতে হবে। তাই আমার অবর্তমানে মাত্র চারদিন আমার বউকে দেখাশোনার জন্য অনেক আত্মীয়- স্বজনের শরণাপন্ন হয়েছি। কিন্তু কেউ আমার আহবানে সাড়া দেয়নি। কারো কোনো দোষ নেই। সবাই নিজ নিজ সংসার, জীবন নিয়ে ব্যস্ত। অথচ কালবৈশাখী ঝড়ের রাতেও যদি কেউ আমাকে ডেকেছে, আমি সবকিছু ফেলে ওই ঝড়ের মাঝেই ছুটে গিয়েছি। আজ আমি কাউকে কাছে পেলাম না। এটাই হয়তো আমার নিয়তি। একদিকে অসুস্থ বউ নিয়ে চিন্তিত, অন্যদিকে পত্রিকার সহকর্মীদের সাথে ভ্রমণে যাওয়ার জন্য আমার মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।
বউয়ের অসুস্থতার কথা ভেবে মন সায় দিচ্ছেনা। বউ হয়তো আমার মনের কথাগুলো পড়তে পেরেছে। তাই সে দৃঢ়ভাবে বলেছে, মাত্র চারদিনের ব্যাপারতো, তুমি পত্রিকার প্রোগ্রামে যাও, আমার কিছু হবেনা ইনশাআল্লাহ। সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে অবশেষে বউয়ের অনুরোধে খুব ভোরে বাসা থেকে বের হলাম। গাড়ি ছুটে চলেছে পত্রিকা অফিসের দিকে আর আমার মন বউয়ের অসুস্থতা নিয়ে অস্থির। কয়েক মিনিটের মধ্যে পত্রিকা অফিসে চলে এসেছি। সারাজীবন আমি সময়ের গুরুত্ব দিয়েছি, আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যথাসময়ের খানিকটা আগে হাজির হয়েছি অফিসে। কিন্তু সহকর্মীরা এক ঘন্টা পরে এলো। সম্পাদক মহোদয় আমার প্রাণের বন্ধু, তাই দেরি করায় বন্ধুত্বের অধিকারে মনে মনে এই শালারে গালি দিচ্ছিলাম। সাত জন্ম তপস্যা করেও এমন ভালো বন্ধু পাওয়া যায়না। সেই হিসেবে আমি সৌভাগ্যবান। পরে জানা গেলো ড্রাইভারের কারণে তার আসতে দেরি হয়েছে।
ঢাকার বনানীতে অবস্থিত আমাদের অফিস। সম্পাদক মহোদয়ের নেতৃত্বে বার্তা সম্পাদক- আল আমিন সেলিম, প্রধান প্রতিবেদক- হিরন প্রধান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক- নাহিদুল হাসান নয়ন, ভিডিও এডিটর- সরোয়ারকে সাথে নিয়ে রওনা হলাম উত্তর বঙ্গের উদ্দেশ্যে। উত্তরা থেকে আমাদের সাথে যুক্ত হবেন, প্রধান উপদেষ্টা- এডভোকেট সাজেদুর রহমান সাজু ভাই। আধাঘন্টার মধ্যে উত্তরায় উনার বাসভবনে আমরা পৌঁছে গেলাম। উনি আমাদের আপ্যায়ন করলেন। আপ্যায়ন শেষে আমরা আবার রওনা হলাম। বাতাসের অদেখা দেয়াল ঠেলে ঠেলে গাড়ি চালাচ্ছে ড্রাইভার সুজন। সম্পাদক মহোদয় ও বার্তা সম্পাদক রয়েছেন খোশমেজাজে। খুনসুটিতে মহা ব্যস্ত উপদেষ্টা আর প্রধান প্রতিবেদক। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বেজায় লাজুক, বসে আছেন চুপটি করে। ভিডিও এডিটর আছেন বেজায় বিপদে, সমবয়সী কেউ নেই বলে। দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে গাড়ি। চারপাশের অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি। চলতে চলতে চলে এলাম বঙ্গবন্ধু সেতু। পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক বার্তা সম্পাদক শুরু করেছেন ফেসবুক লাইফ। বন্ধুরা সবাইকে শুভেচ্ছা, প্রীতি-ভালোবাসা, আমরা দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ টিম, জেলা প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করতে যাচ্ছি উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। আমরা সময়ে সময়ে আপনাদের আপগ্রেড জানাবো। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইফে আড্ডা চলছে। এদিকে সহযোগী সম্পাদক নিস্তেজ- নিশ্চুপ, যা তার স্বভাব বিরুদ্ধ। ঘরে তার অসুস্থ সহধর্মিণী একা রয়েছে। নিজের শরীরও ভালো নেই যে তার।
চারদিকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চলে এলাম সিরাজগঞ্জ রোডে। চা- নাস্তা খাওয়ার জন্য এখানে ক্ষণিকের যাত্রা বিরতি। এখান থেকে আমাদের সাথে নতুন করে যুক্ত হলেন উল্লাপাড়া প্রতিনিধি মোঃ রায়হান। যাত্রা বিরতি শেষে ছুটে চলেছে গাড়ি। গাড়িতে আওয়াজ মিউজিক স্টেশনের গান শুনছে সবাই। হচ্ছে হৈ-হুল্লোড়, আনন্দ। যেনো সবাই চলে গেছে ছেলেবেলাতে। হৈ-হুল্লোড়, আনন্দ করতে করতেই চলে বগুড়াতে। ক্ষণপরে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিদের সাথে শুরু হলো মতবিনিময় সভা। মতবিনিময় সভা শেষে বগুড়া জেলা প্রতিনিধি আমাদের আপ্যায়ন করলেন। আপ্যায়ন শেষে আমরা রওনা হলাম, এবার গন্তব্য মহাস্থানগড়।
বগুড়া শহরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলে এলাম মহাস্থানগড়ে। আনন্দ- উল্লাসে ছবি তুললাম সকলে। খেলাম সবাই সুলতান মিয়ার কটকটি। আহা স্বাদে- গন্ধে অতুলনীয়। গড়িয়েছে সন্ধ্যা, এবার যাবো নওগাঁ। রাতের আঁধারে পথ হারিয়ে করেছি খানিকটা ভুল, দিয়েছি কিছুটা মাশুল। পথচারীরা পথ চিনিয়ে দিলো। রাতের আঁধার বেদ করে আমরা ছুটে চলেছি নওগাঁর উদ্দেশ্যে। চারদিকে রাতের অপরূপ সৌন্দর্য, হয়তো কারো কারো মনে পড়ছে প্রেয়সীকে। আমার কিন্তু বেশ মনে পড়ছে। ভাবছি, সে যদি আমার পাশে থাকতো, এ ভ্রমণ আরো রোমাঞ্চকর হতো। এই অঞ্চল যথেষ্ট সমতল। জমি থেকে রাস্তার উচ্চতা দুই/ তিন ফুট। কোথাও কোথাও একটু বেশি। নদী- নালা তেমন একটা চোখে পড়েনি। রাস্তায় তেমন একটা কালভার্ট, ব্রীজ চোখে পড়েনি। হালকা আলো আঁধারীতে বুঝা যাচ্ছে চারদিকের দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ। তার মাঝে কিছু কিছু বসতি। কোথাও কোথাও চাতাল দেখা যাচ্ছে। অবশেষে চলে এলাম নওগাঁয়, ঠাঁই হলো জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয়। কিছুটা বিশ্রামের পর নওগাঁ প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে ওখানকার তন্দুরি হোটেলে রাতের খাবার খেলাম। নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি মিন্টু ও স্থানীয় সাংবাদিক বন্ধুদের আতিথিয়েতায় মুগ্ধ দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ পরিবার। খাওয়াদাওয়া শেষে ফিরে এলাম ডাকবাংলোয়। ক্ষণিকের প্রাণবন্ত আড্ডা শেষে, সবাই হারিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে।
সূর্য্যি মামা জেগে উঠার সাথে সাথেই জেগে উঠলাম আমরা সকলে। আমরা স্থানীয় একটি সাধারণ হোটেলে সকালের নাস্তা করলাম। হোটেলটি সাধারণ হলেও স্বাদে গন্ধে খাবার ছিলো অসাধারণ, অতুলনীয়। আমার মতো ভোজন রসিকরা এ খাবারের কথা মনে রাখবে হয়তো আজীবন। অতপর রওনা হলাম নওগাঁর বদলগাছির পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারে। নওগাঁ থেকে পাহাড়পুর ভ্রমণে আমাদের ভ্রমণ সঙ্গী হলেন, সম্পাদক মহোদয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাসুম ভাই। অত্যন্ত বন্ধুসুলভ মানুষ তিনি। তার ভালোবাসা, আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। তিনি আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পাহাড়পুরে। আমরা গ্রাম বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে ছুটে চলেছি পাহাড়পুরে। চারদিকে কলাবাগান, আমবাগান, দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ। মাঠে পাকা ধান, পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে আহা মনভরে যাচ্ছে। এভাবেই আমরা চলে এলাম পাহাড়পুরে। টিকিট কেটে আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম। এমন সময় সহযোগী সম্পাদকের ফোন এলো, সম্পাদক মহোদয় তাকে ক্ষেপানোর চেষ্টা করলো। সম্পাদক, প্রধান উপদেষ্টা, সহযোগী সম্পাদক, প্রধান প্রতিবেদক হাসি ঠাট্টা করছে। বার্তা সম্পাদক, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, উল্লাপাড়া প্রতিনিধি বয়সে তরুণ হওয়ায় তারা আলাদাভাবে আনন্দ করছে। ভিডিও এডিটর সরোয়ার কৈশোর পেরিয়ে সদ্য যুবক। তার সমবয়সী কেউ না থাকায় সে ক্যামেরা নিয়ে চারপাশের দৃশ্য ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। একসময় বার্তা সম্পাদক তার সাথে যুক্ত হলেন। মূল কাজটা তারাই করতে লাগলেন। কখনো কখনো প্রধান প্রতিবেদক তাদেরকে সহযোগিতা করছেন। আর আমরা সিনিয়ররা বরাবরই মতোই আনন্দ আড্ডায় মগ্ন। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের প্রবেশ করলেই বাগান, বসার জন্য কিছু সুন্দর সুন্দর ছাউনি। মিউজিয়াম, রেস্ট হাউজ। কিছুটা পথ এগিয়ে গেলেই ধ্বংসাবশেষের উপর আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড় বৌদ্ধ বিহার। আনন্দ, উল্লাস, আড্ডা, ছবি তোলা শেষে রওনা হলাম নওগাঁয়। গাড়িতে বাজছে আমাদের “আওয়াজ মিউজিক স্টেশন” এর গান। আমরা গানের তালে তালে আনন্দ, হাসিতামাশায় মত্ত।
এরপর আমরা চলে এলাম নওগাঁ জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয়। খানিকটা বিশ্রামের পরে নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিদের সাথে দুপুরের খাবার খেয়ে মতবিনিময় সভা শেষ করলাম। বিকালে “বাংলা বাউল” নামে একটা নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠান। এই সংগঠনের সভাপতি দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ- এর জেলা প্রতিনিধি মিন্টু ভাই। ‘বাংলা বাউল’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন, দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ- এর সম্পাদক মহোদয়। উনার নেতৃত্বে আমরা চলে এলাম সভাস্থলে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে আমরা সবাই গান শুনলাম। তারপর অনুষ্ঠান বেরিয়ে নগরীতে একটু হাঁটাহাঁটি করলাম, রাস্তার উপরে বসা দোকান থেকে চা, সিংগাড়া, পিঁয়াজি, ভেজিটেবল রোল খেলাম। এমন সময় আমরা দেখলাম অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী এক বৃদ্ধ বই বিক্রি করছে। আমরা তার পোশাকআশাক, পরিপাটিতা এবং সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কিছু বই কিনলাম। আমাদের বার্তা সম্পাদক তার একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে তাকে মোরগ পোলাও খাইয়ে বিদায় দিলেন। এরপর আমরা আরো কিছু সময় আড্ডা দিয়ে মাসুম ভাই সহ রাতের খাবার খেলাম। অতপর আবারো আড্ডা, হৈ-হুল্লোড় শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোরেই যেতে হবে গাইবান্ধা জেলায়। বুড়ো খোকাদের দুষ্টুমির কারণে ভোরে বের হতে পারলাম না। অনেকটা বেলা হয়ে গেছে। নওগাঁর প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিক বন্ধুদের সাথে নাস্তা করে নওগাঁ থেকে বিদায় নিলাম।
আমরা এগিয়ে চলেছি সামনের দিকে আর আমাদের মন পড়ে রয়েছে পিছনের দিকে। বারবার নওগাঁর সাংবাদিক বন্ধুদের কথা মনে পড়ছিল। তাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ভাবাবেগের মধ্যেই চলতে চলতে আমরা চলে এলাম গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। এমন সময় বার্তা সম্পাদক ঢাকাস্থ গোবিন্দগঞ্জের এক সাংবাদিক বন্ধুকে ফোন দিলেন। তিনি গোবিন্দগঞ্জ মেয়রের ভাই। উনি ওইসময় গোবিন্দগঞ্জে ছিলেন। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমাদের সাথে দেখা করলেন। আমরা তাকে সাথে নিয়ে মিষ্টি, দই, সিংগাড়া খেয়ে তার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। ওদিকে আমাদের গাইবান্ধার প্রতিনিধিরা অধির আগ্রহে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই রাস্তা ভীষণ খারাপ। সেজন্য আমাদের গাইবান্ধা পৌঁছাতে অনেকটা দেরি হলো। গাইবান্ধা পৌঁছানোর পর আমাদের জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে গাইবান্ধার সাংবাদিকরা আমাদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করলেন। সময় স্বল্পতার কারণে আমরা দ্রুত মতবিনিময় সভা শুরু করলাম। আলোচনা শেষে স্থানীয় একটি হোটেলে সবাই দুপুরের খাবার প্রায় সন্ধ্যায় খেলাম। এবার বিদায়ের পালা। এমন সময় সহযোগী সম্পাদক বলল, আমার এখানে একজনের সাথে দেখা করতে হবে। সবার অনুমতি নিয়ে তিনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ও ভিডিও এডিটরকে সাথে নিয়ে গাইবান্ধা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহযোগী পরিচালকের বাসায় গেলেন। উনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে চলে এলেন।
এরপর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পথে একটি জায়গায় চা খেতে যাত্রা বিরতি হলো। চা খেতে খেতে সবাই রাতে বগুড়ার মোটেল পর্যটনে থাকবে এবং সকালে আস্তেধীরে রওনা দিবে, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। যেই কথা, সেই কাজ। বগুড়ার বনানীতে অবস্থিত মোটেল পর্যটনে উঠলাম। ভাড়া তুলনায় সেবায় মান ও মোটেলের রুমের পরিবেশ খুবই শোচনীয়। রাতে পর্যটনে খারাব খেয়ে যার যার রুমে ঘুমাতে গেলো। এমন সময় সহযোগী সম্পাদকের এক ভাগিনা তার সাথে দেখা করতে এলো। তিনি তার ভাগিনাকে নিয়ে বাইরে চলে গেলেন এবং ঘন্টা খানেক পরে ফিরে এলেন। তিনি ফিরে আসার কিছুক্ষণ পরে সহযোগী সম্পাদকের মিসেস তাকে ফোন দিয়ে তার ভীষণ অসুস্থতার কথা জানালেন। সহযোগী সম্পাদক তাৎক্ষণিক সম্পাদক মহোদয় বললেন, আপনার ভাবি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি আপনাদের রেখে ভোরেই চলে যাবো। তাদের কথোপকথন শুনে প্রধান উপদেষ্টা বললেন, ভাবি অসুস্থ আপনার আসা উচিত হয়নি। এই সময় সম্পাদক মহোদয় তাকে কিছু টাকা দিতে চাইলেন। তিনি লজ্জায় তা গ্রহণ করলেন না। যদিও ওইসময় তার পকেটে পর্যাপ্ত টাকা ছিলনা। তিনি রুমে চলে আসার পর তার স্ত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে শারীরিক অবস্থার কথা জানালেন। উনার স্ত্রী আরো বললেন, তোমার আসতে হবেনা, সবার সাথেই এসো। অবশ্য তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন, তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা শুনে রাত এক টায় সহযোগী সম্পাদক একাই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। সবাইকে বলার সময়ও পাননি তিনি। বার্তা সম্পাদক তার রুমমেট হওয়ায় তাকে বলে এলেন। এবং গাড়িতে উঠে সম্পাদক সাহেবকে ফোনে জানালেন। তিনি যখন পর্যটন থেকে বের হলেন, তখন সবাই গভীর ঘুমে বিভোর। ‘অসমাপ্ত ভ্রমণ’ হ্যাঁ এ যাত্রায় তার ভ্রমণ অসমাপ্তই রয়ে গেলো। এটাই তার জীবনের প্রথম অসমাপ্ত ভ্রমণ।
লেখক: শাহজাহান সিরাজ সবুজ
সহযোগী সম্পাদক
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!