হোম » সম্পাদকীয় » মানসন্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের অবদান ও আমাদের করণীয়

মানসন্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের অবদান ও আমাদের করণীয়

মোঃ উজ্জল হোসেন: শিক্ষা সকলের সমান অধিকার। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য পূরণে শিক্ষাই হচ্ছে প্রধান অবলম্বন। মেধা ও মননে আধুনিক এবং চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌছে দিতে পারে। তাই শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড বলা হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭নং অনুচ্ছেদে সার্বজনীন শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণিত ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে- সরকার একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করিবে। আর প্রাথমিক শিক্ষাই হচ্ছে শিক্ষার প্রথম সোপান। বিভিন্ন দেশে প্রাথমিক শিক্ষার পদ্ধতি, বয়সসীমা, সময়সীমা, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন ধরনের। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে The world book encyclopedia তে বলা হয়েছে- Primary education or elementary education is typically the first stage of formal education, coming after preschool/kindergarten and before secondary school. জাতিসংঘের শিশুদের তহবিল (ইউনিসেফ) বিশ্বাস করে যে, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের অনেক ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। যেমনঃ দারিদ্র্য হ্রাস করে, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করে, লিঙ্গ সমতা উৎসাহিত করা এবং পরিবেশগত বোঝাপড়া বাড়ে ।

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন ও বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা একই সুতোয় গাথা । তিনি দেশ স্বাধীন হবার পরপরই সমগ্র শিক্ষা নিয়ে ভাবনা শুরু করে ছিলেন। আর যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষা ভিত্তি। তাই এই শিক্ষা নিয়েই ভাবনা শুরু করেন তিনি। গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের সন্তানদের কাছে শিক্ষাকে সহজ ভাবে পৌছে দিতেই প্রাথমিক শিক্ষাকে এক ঘোষণায় সরকারীকরণ করেন। ১৯৭২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেসনোটে বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা ভাষাই হবে শিক্ষার মাধ্যম। ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ অন্য একটি প্রেসনোটের মাধ্যমে জানানো হয়, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাবে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পাবে বাজার মূল্যের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম দামে। বঙ্গবন্ধুর সরকারের উদ্যোগে ৩৬ হাজার ১৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয় এবং বাড়ানো হয় শিক্ষকদের বেতন। এছাড়া নারীর উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধু।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন আপাদমস্তক শিক্ষানুরাগী। তিনি একটি শোষণ-বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তিনি জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ছিল তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তিভূমি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ৬টি প্রধান শিক্ষা কমিশনসহ মোট ৮টি শিক্ষা প্রতিবেদন পেশ করে। কিন্তু কোনোটিতেই অখণ্ড পাকিস্তানের জাতীয় মুক্তি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। তাই তিনি সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও দর্শনকে ধারণ করে যেকোনো জাতি একটি আধুনিক, কর্মমুখী এবং বিজ্ঞান মনস্ক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। এ কারণেই তার শিক্ষা ভাবনা ‘জাতীয়’ থেকে ‘বৈশ্বিক’।

বাংলাদেশ উত্তরোত্তর যে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৩ সালের ২০ মার্চ, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় শিক্ষা সম্পর্কে তার চিন্তাধারা আরও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু। সেদিনের অনুষ্ঠানে নতুন স্নাতক সনদধারী এবং শিক্ষকদের সামনে বঙ্গবন্ধু বলেন,- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের দুইশ’ বছরের ও পাকিস্তানের ২৫ বছরে গড়ে ওঠা শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু কেরানি তৈরি করেছে, মানুষ তৈরি করেনি। এজন্য তিনি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোরদেন, যার মাধ্যমে আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা যাবে এবং যার মাধ্যমে স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণে সহায়তা করবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বঙ্গবন্ধু। আর দক্ষমানব সম্পদ বা সোনার বাংলা গড়তে আমাদের শিক্ষায় গুরত্ব দিতে হবে আর এ শিক্ষার ভিতই হল প্রাথমিক শিক্ষা ।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর চিন্তা এবং দর্শন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নতরাষ্ট্রে পরিণত হতে চায়। গুণগত শিক্ষামান নিশ্চিত করা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বৃদ্ধি ছাড়া কোনো দেশ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তাই বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন অনুরসরণ করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক। টেকসই উন্নয়ন এর মূল বৈশিষ্ট হলো No one left behind। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণিত টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ১৭ টি অভিষ্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা (এসডিজি) কে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। ১৭ টি অভিষ্ট / লক্ষ্যমাত্রার সাথে সাথে ১৬৯ টি সুনিদিষ্ট লক্ষ্য ও ২৩২ টি পরিমাপক রয়েছে। যার মধ্যে ৪ নং অভিষ্ট হল- মানসম্মত শিক্ষা (অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা , সবার জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা )। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন পূর্বক তা বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সমতা তৈরি রমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষার সফলতার দিক গুলো হল- শতভাগ শিশুর প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া, শ্রেণি কক্ষে লৈঙ্গিক সমতা প্রতিষ্ঠা এবং অতি উচ্চ হারে শিক্ষার্থীদে রপ্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করা। এ ধারাকে অব্যহত রাখতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ জনসম্পদ উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমানে মানসম্মত শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গুণগত ও মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা পরবর্তী শিক্ষার মূলভিত্তি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব প্রদান করা হয় সবচাইতে বেশি। শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তির উপর নির্ভর করে পছন্দমত পরবর্তী শিক্ষার ধারাকে বেছে নেন। কারিগরি, বিজ্ঞান, কলা বাবাস্তব মূখী শিক্ষার মাধ্যমে তারা নতুন প্রজন্মকে আগামী দিনের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে। বাস্তব এ চিত্র কে সামনে রেখেই বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধিতে সার্বিক প্রয়াস চালাতে হবে।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। যেমন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যম প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ভিত্তিক এবতেদায়ী ও কওমী শিক্ষা ব্যবস্থা ও এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, বে-সরকারি ও প্রি-ক্যাডেট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে প্রায় ২৬০০০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একযোগে জাতীয়করণ করেন। এছাড়ও কয়েকশত এবতেদায়ী মাদ্রাসাকে এমপিও এর আওতায় আনায়ন করেন। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের গৃহীত আরোও পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তিন দফার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি। এ কর্মসূচিতে বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে রঙ্গিন বই হাতে তুলে দেওয়া, উপবৃত্তি কার্যক্রম, সরকারি বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ, স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন প্রভৃতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানসিক বিকাশ ও খেলা ধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টসহ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

শিক্ষার গুণগতমানোন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের পাঠ প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের নতুন পদ সৃষ্টিসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করণসহ শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা প্রশংসার দাবী রাখে। প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করণ, ডিজিটাল হাজিরার প্রচলন করা হয়েছে। যার ফলোশ্রতিতে প্রাথমিক শিক্ষায় গমনোপযোগী প্রায় শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি সম্ভব হয়েছে। প্রাইমারি এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট (পিইডিপি-৩) এর আওতায় সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের নতুন ভবন নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।

ক্লাস সমূহে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার, বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান, স্কুল মিল চালুকরণ, স্কুল ড্রেস প্রদান ও উপবৃত্তি প্রদান সহ বিভিন্ন ধরনের সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এ কার্যক্রম শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধিসহ গ্রাম ও শহর, ধনী ও গরীবের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে শিক্ষার মানের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করছে। যার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অভিষ্ট-৪ এর প্রতিশ্রুতি মানসম্মত শিক্ষা (অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতা ভিত্তিক মানসম্মতশিক্ষা নিশ্চিত করা , সবার জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা ) নিশ্চিত করতে সরকার সক্ষম হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য সরকার শিক্ষকদের মাধ্যমে হোম ভিজিট, ডিজিটাল হাজিরা, উপবৃত্তি প্রদান এবং ক্লাস সমূহকে আনন্দদায়ক করা সহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়নকল্পে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে শিশুদের উপযোগী পাঠদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ বিষয়টি ভীতিকর না হয়ে আনন্দদায়ক হবে, সে লক্ষ্যে সরকার নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্য সরকার নতুন ভবন নির্মাণ করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। এ প্রক্রিয়া আরোও ত্বরান্বিত করার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সমূহের মধ্যে রয়েছে বছরের শুরুতে প্রতিটি স্কুলে ক্যাচমেন্ট এলাকাভিত্তিক শিশু জরিপ পূর্বক ভর্তি নিশ্চিত করা, নিয়মিত মাসমাবেশ, উঠান বৈঠক, হোম ভিজিট কার্যক্রম, বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গ্রহণ ও উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক গুণগতমানোন্নয়ন ও উৎকর্ষসাধন। যা যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন কল্পে শিক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরোও বেশি আন্তরিক হতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষক অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাসমাবেশ, উঠানবৈঠক, সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত কল্পে এসএমসি কমিটির নিয়মিত সভা আয়োজন করা যেতে পারে। প্রত্যেক প্রাথমিক একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সাথে সাথে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে রূপকল্প ২০২১, ২০১৪১ ও ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়নে হাতিয়ার হিসিবে প্রাথমিক শিক্ষার আধুনিকায় অত্যবশ্যকীয়।

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন ব্যতীত বাংলাদেশ কখনও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি আরোও সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণের অবকাশ রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরকরার মাধ্যমে সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদার উন্নয়ন সাধন করা যেতে পারে। শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জবাবদিহিতা আরোও বেশি নিশ্চিত করা যেতে পারে। এসএমসিএর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং এসএমসির কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি নিশ্চিত করা যেতে পারে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যেতে পারে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করে তোলাই বর্তমান সময়েদাবী।

১৯৭০ সালে নির্বাচনী বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ বলে অভিহিত করেন। শিক্ষা সম্বন্ধে নীতিনির্ধারণী এ বক্তব্যে তিনি বলেন, সু-সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে মূলমন্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ সরকার। আজকের শিক্ষার্থীরা দেশের গৌরবময় সংগ্রামী ইতিহাস, জাতীয় সংস্কৃতি জেনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মোঃ উজ্জল হোসেন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!