প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১০:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৭, ২০২৩, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
“কিশোরগঞ্জে টানা বর্ষণে পানি আর পানি” ভেসে গিয়েছে হাজার হাজার পুকুরের মাছ, ক্ষয়ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা

শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জে গত দুই দিনের টানা ১৭ ঘন্টা ভারী বর্ষণে হাজার হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।জেলা মৎস অফিস সূত্রে জানা যায় ৬ হাজার ৬৪১টি পুকুর ও ফিশারির প্রায় ৩৭ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।অবকাটামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি টাকার।
এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার সাড়ে ৩ হাজার মাছ চাষি।ভেসে যাওয়া মাছের মধ্যে শিং, পাবদা, রুই, কাতল, মৃগেল, ঘাসকার্প, কারফু, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে বলে জানান মাছ চাষিরা।কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট সাড়ে তিন হাজার মৎস্য চাষির ৬ হাজার ৬৪১টি পুকুর ও ফিশারি তলিয়ে গেছে।এতে প্রায় সাড়ে ১৮শ’ মেট্টিক টন মাছ ভেসে গেছে।যার বাজার মূল্য ৪০ কোটি টাকা।
এ ছাড়াও পুকুর ও ফিশারির অবকাটামোগত প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।ধারণা করা হচ্ছে অবকাটামো ও মাছের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি টাকা।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলার হোসেনপুর,কটিয়াদী ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা।সজিব নামে এক মৎস্য চাষি জানান, ‘এক রাতের বৃষ্টিতেই আমার দুই ফিশারি ডুবে গিয়েছে। পাড় ডুবে উপর দিয়ে পানি যাচ্ছে।প্রতিটি ফিশারিতে প্রায় তিন/চার লাখ টাকার মতো মাছ ছিল।
আনোয়ার নামে এক মৎস্য খামারি জানান, আমার ২ একর পরিমাণের একটি ফিশারি আছে।রাতের বৃষ্টিতে ফিশারির পাড় তলিয়ে সব মাছ চলে গিয়েছে।
আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে।হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক শাহজাহান সাজু জানান, ১ একর ১২ শতকের অগ্রণী মৎস্য খামার নামে একটি ফিশারি ছিল,এ বছর কৃষি ব্যাংক হোসেনপুর শাখা থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম, টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্রয় করতে হয়েছে।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।বরাদ্দ এলে উপজেলা কমিটির মাধ্যমে চাষিদের পুনর্বাসন করা হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.