প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ৪:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩, ২০২৩, ৬:৩৩ পি.এম
দাগনভূঞায় বিনা ২৫ ধানের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ আবদুল মুনাফ পিন্টু: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক তত্বাবধানে নতুন প্রযুক্তি বোরো বিনা ২৫ ধান চাষাবাদে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষক জসিম উদ্দিন। দাগনভূঞা পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়ন নয়ানপুর কৃষি প্রদর্শণীর আওতায় বিনা ২৫ ধান চাষাবাদের বাম্পার ফলনে অত্র উপজেলায় বীজ সংগ্রহের জন্য যথারীতি হৈচৈ পড়ে গেছে।
জানা যায়, বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প জীবনকালীন বিনা ধান ২৫ এর প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ দিবস ও মাঠ পরিদর্শণ গত মঙ্গলবার বিকেলে পরিদর্শণে আসেন চট্রগ্রাম ও ফেনী অঞ্চলের উর্ধতন কর্মকর্তাগন।
কর্মকর্তাগন জানিয়েছেন, এ ধান অন্যান্য বোরো জাতের ধানের তুলনায় সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত। ফলন হবে ভালো, চিকন চাল, রোপনের পর গাছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন, ধান পেঁকে গেলেও গাছ কাঁচা থাকবে এতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলেও ধানের ক্ষতি হবেনা, কৃষক বীজ এবং চালের বাজারমূল্য পাবেন অনেক বেশী যেহেতু অনেকটা বাহিরের বাশমতি চালের মতই। রান্না করা ভাত দ্রুত নষ্ট হবার সম্ভাবনা নেই।
আরোও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রয়েছে এ ধানের।এক কেজি বীজ দিয়ে কমপক্ষে ৮০ কেজি ধান উৎপাদন হবে অনায়াসে যদিও এ হিসেব বাম্পার ফলনে রেকর্ড ভেঙ্গে দ্বিগুন হয়েছে। সবদিক বিবেচনায় বিনা ২৫ ধান উদ্ভাবনের প্রক্রিয়াকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভূতপূর্ব সাফল্যর আরেকটি অংশ।
সোনার বাংলায় সোনার ফসল ফলানোর উন্নত জাতের একটি জাত এ ধান। প্রথম প্রদর্শনীতে যদিও কিছু ক্রুটি থাকতে পারে তবে আগামীতে সেসব বিষয় মাথায় রেখে ব্যাপকভাবে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করছেন অব্যাহতভাবে। এ ধানের চাল বিদেশে রপ্তানী যোগ্য হবে।
চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ব্যাপক সম্প্রসারণের লক্ষে কৃষকদের উৎসাহ উদ্দীপনায় কাজ করছেন উপ - সহকারি কৃষি অফিসার থেকে শুরু করে উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। ইতিমধ্যে দেশের প্রত্যেক অঞ্চলে বিনা ২৫ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলেও জানান কর্মকর্তাগন। আগামীতে এ বিনা ২৫ ধান চাষাবাদে রেকর্ড সৃষ্টি হবে।
মাঠ পরিদর্শণ ও মাঠ দিবসে দাগনভূঞা উপ সহকারি কৃষি অফিসার আবদুল্লাহ আল মারুফ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ডক্টর অরবিন্দ কুমার রায়।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন দাগনভূঞা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহি উদ্দিন মজুমদার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ - পরিচালক কৃষিবিদ মো. একরাম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ পুস্পেন্দু বড়ুয়া, অতিরিক্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো জগলুল হায়দার, দাগনভূঞা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মহিউদ্দিন মজুমদার, কৃষিবিদ মোঃ জুলফিকার হায়দার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, উপ সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার লুৎফুল হায়দার চৌধুরী, কৃষক জসিম উদ্দিন, ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অলি আহাম্মদ প্রমূখ।
বিশেষ অতিথি উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ বিনা'র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডক্টর সাকিনা খানম ভিড়িও কনফারেন্সে বিনা ২৫ এর সার্বিক বিষয়ে উপস্থাপন করেন এবং কৃষকদের উৎসাহ প্রদান করেন।
কৃষক জসিম উদ্দিন জানান, দীর্ঘবছর কৃষি কাজ করে আসছি কিন্ত এ বিনা ২৫ ধানের ফলনে আমি খু্বই আনন্দিত যা অন্য কোন ধানে এমন ফলন আসেনি। কৃষি বিভাগের সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে আগামীতে ২ একর জমিতে চাষাবাদ করবেন বলে জানান। ইতিমধ্যে অনেকেই বীজ কেনার জন্য আসছেন। কৃষক ভাইদের অনেক আগ্রহ দেখছি এবং জমিতে ধান দেখার জন্য অনেকেই আসছেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন বিনা কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সাংবাদিকগন, জনপ্রতিনিধি ও কৃষক, কৃষাণীগন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.