
নুর জাহান বেগম হ্যাপি: কোটি টাকার লেনদেনের এই সময়ে এক হাজার টাকার নোট অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রতুল হয়ে পড়ছে—এমন মতামত ক্রমেই জোরালো হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে বড় পরিবর্তন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের খবর মুহূর্তেই জানা যাচ্ছে। সরকারি কার্যক্রম, অর্থনৈতিক অবস্থা, নীতি নির্ধারণ—সবকিছুই এখন অনেক বেশি স্বচ্ছ ও নাগালের মধ্যে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে তথ্যপ্রবাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।
তবে অর্থনীতির এই সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুদ্রার মূল্যমানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যমানের নোট এক হাজার টাকা। অথচ মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের কারণে অনেকের জন্য বেশি পরিমাণ টাকা বহন করা ঝামেলাপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, উচ্চ মূল্যমানের নোট চালু করা হলে বড় অঙ্কের লেনদেন সহজ হবে এবং নগদ বহনের ঝুঁকি ও অসুবিধা কমবে। অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞ আবার সতর্ক করে বলেন, বেশি মূল্যমানের নোট চালু হলে কালো টাকা সংরক্ষণ বা অবৈধ লেনদেনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।
এ প্রেক্ষাপটে পাঁচ হাজার ও দশ হাজার টাকার নোট চালুর বিষয়ে জনমনে আলোচনা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নীতিগত সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।