
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিএনপির ডাকা ৩দিন অবরোধ কর্মসূচীর শেষ দিনে শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হচ্ছে। উপজেলা জামায়াত-বিএনপি’র ৯৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ২জনকে।
বৃহঃবার (২ নভেম্বর) সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায় এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদে এ অবরোধ কর্মসূচী পালন করে উপজেলা বিএনপি। বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচীতে উপজেলার জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে।
বৃহঃবার অবরোধ কর্মসূচীর সমর্থনে উপজেলা বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অবরোধ চলাকালে সরিষাবাড়ী শিমলা বাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস-মিনিবাস-ট্রাক ছাড়েনি। তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা থেকে সার পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
অবরোধ কর্মসূচীর সমর্থনে সকাল সাড়ে ১১টায় জামালপুর জেলা বিএনপি‘র সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি বিরাট মিছিল এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আরামনগর বাজার মোড় এলাকায় সমাবেশ করে।
এদিকে, অবরোধে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে সরিষাবাড়ীতে জামায়াত- বিএনপি’র ৯৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা
করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।
বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার পৌরসভার বলার দিয়ার গ্রামের আবেদ আলী (৫০) ও মতিয়র রহমান (৪৮)।
এ বিষয়ে এজাহারের বরাতে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, অবরোধকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিসন্ত্রাস, ভাংচুর, নাশকতা, নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে জমায়েত হন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পৌরসভার চৌধুরী মোড় এলাকায় জামাত-বিএনপির গোপন বৈঠকে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। থানার উপ-পরিদর্শক হুমায়ূূন কবির ১৯৭৪ সনের পুলিশের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলার বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বলেন, কোন গায়েবী মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আওয়ামী-পুলিশী নির্যাতন যত বাড়বে সরকার পতনের আন্দোলন তত তীব্র হবে। নেতাকর্মীরা সরকারের পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাবেনা। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ করে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।