প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৩:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১১, ২০২৩, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সোনাইমুড়ীতে বিকাশ থেকে উধাও হচ্ছে টাকা উদাসীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাতার টাকা প্রতারক চক্রের পকেটে

মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি : তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা হচ্ছে । তথ্যপ্রযুক্তি যেমন আপডেট হচ্ছে, তাদের কৌশলও পরিবর্তন হচ্ছে। যার ফলে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
বিকাশ পাসওয়ার্ড হ্যাক করে বা সু কৌশলে পাসওয়ার্ড নেওয়া অনেকেই টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে।
নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা। বিত্তশালী থেকে শুরু করে গরিব দিনমজুররাও ছাড় পাচ্ছে না প্রতারক চক্রের হাত থেকে। অথচ এ বিষয়ে উদাসীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীতে বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের অধিকাংশেরই মাথায় হাত। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারক চক্র ভাতাভোগীদের কাছ থেকে কৌশলে পিন নাম্বার সংগ্রহ করে এই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপÍর সূত্রে জানা গেছে, সোনাইমুড়ীতে বয়স্ক ভাতা ১৬ হাজার ৬’শ ৭৭ জন, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা ৪ হাজার ১’শ ৪৬ জন, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ৫ হাজার ৯ জন পাচ্ছেন।
প্রতি তিন মাস, ছয় মাস এবং ক্ষেত্র বিশেষ এক বছর পরপর তাদের মোবাইলে ব্যাংকিং হিসাব নম্বরের এককালিন ওই টাকা জমা হয়। টাকা জমা হওয়ার পূর্বেই প্রতারকরা অধিকাংশ ভাতা ভোগীকে ফোন করে অনলাইন করার কথা বলে ৪শত টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে।
আগামী ৩০ তারিখে ৬ মাসের টাকা একসাথে তাদের হিসাব নাম্বারে জমা হবে। এ সুযোগে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতারকরা ভাতা ভোগীর মোবাইলে ফোন করে বলে “আমি সোনাইমুড়ী উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে বলছি। আপনি কি ভাতা পান? আমরা আপনার নতুন বই করে দিচ্ছি। আগে আপনি পেতেন ১৫শ টাকা, এখন পাবেন ৩ হাজার টাকা। আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ গেছে। দ্রুত নাম্বারটি বলুন। আর না হয় আপনার বইটি বাতিল হয়ে যাবে।”
এভাবেই নানা প্রলোভন দিয়ে ভাতার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।
টাকা উধাও হওয়া এমনই একটি ঘটনার ঘটেছে ।
উপজেলার ছনগাঁও গ্রামের আব্দুল জাব্বারের স্ত্রী কুলসুম আক্তার বলেন, চলতি মাসের ৬ তারিখ ০১৯৪৩০২৩৬৯৭ ও ০১৬২৭৫৬৯৭০৩ নাম্বার থেকে ফোন করে তার মাতৃত্বকালীন ভাতা হয়েছে উপজেলা অফিস তার বিকাশ নাম্বার ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করছে। পরে একটি মেসেজ দেয় ওই মেসেজ রিপ্লাই দিতে বলে তার স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো ৫২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। পরে ওই নাম্বারের সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
টাকা উধাও হওয়া আরো একজন একটি ঘটনার সাক্ষী উপজেলার রথি গ্রামের আজিম উদ্দিনের বিধবা মেয়ে শাহিনা আক্তার জানান, তার মোবাইলে ০১৮৭৯০৪১৪৫১ নাম্বার থেকে ফোন করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের পরিচয় দিয়ে বিকাশের পিন কোড চায়। সরল বিশ্বাসে পিন কোড দিলে তার ছয় মাসের ভাতার টাকা নিয়ে যায়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সৈয়দ জহুর আহম্মদ জানান, মা ও শিশু সহায়তা ভাতা ভোগী সোনাইমুড়ী পৌরসভার ১৩ জন, ১০ ইউনিয়নের ৬০ জন রয়েছে। ভাতার টাকা বিকাশে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কয়েকজন ভাতাভোগী করেছেন। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনাইমুড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, এই ধরনের অভিযোগ বিস্তর। স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানদের এইসব বিষয়ে ভাতা ভোগীদের সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করতে বলা হয়েছে।
মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা করার জন্য বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রতিদিনই তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ নিয়ে আসেন। ইউএনও ফেইসবুক পেইজ থেকে প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য সচেতনতা মূলক পোষ্ট দিয়েছেন। এখনও প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.