প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৭:৩৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৯, ২০২৩, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
শেরপুরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

এম এ রাশেদ: বগুড়ার শেরপুরে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে ওই শিক্ষকের অপসারণ ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
গত রবিবার (১৮জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া আর্জিনা-হামিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙণে এই ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ জুন বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর শ্রেণীকক্ষের মধ্যে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ান প্রধান শিক্ষক তরিকুল। এরই মাঝে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে যায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক বাথরুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।
এমনকি ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ছাত্রীটি চিৎকার শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বাড়ি এসে পরিবারের সবাইকে ঘটনাটি খুলে বলেন।
পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেন প্রধান শিক্ষক তরিকুল ও তার লোকজন। এজন্য মোটা অঙ্কের টাকাও লেনদেন হয়।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এলাকাবাসী। তারা ওই শিক্ষকের অপসারণ ও বিচার দাবিতে একাট্টা হয়। তাই রবিবার বিদ্যালয়ে ক্লাশ শুরু হওয়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী ওই প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধারপূর্বক আটক করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রাইভেট পড়ানোর সময় বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় প্রধান শিক্ষক।
আমরা ওই লম্পট প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ইতিপূর্বেও ওই শিক্ষক এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। টাকা দিয়ে কমিটির সবাইকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তারা।
জানতে চাইলে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়েই সর্ঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ থেকে উদ্ধারপূর্বক আটক করা হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, এ ধরনের ঘটনার কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আশাপ্রদ নয়।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবু কুমার সাহা জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পেয়েছি। আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রমুলকভাবে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। যা তদন্তের মাধ্যমেই সত্য ঘটনাটি উদঘাটন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.