এম এ রাশেদ: বগুড়ার ধুনটে স্কুলের উন্নয়নের অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, মুথুপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ও প্রধান শিক্ষক আবরুদ্ধ। তিন ঘন্টা পর তারা মুক্ত হন।
বুধবার (১০ই মে) উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের খাদুলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, মথুরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুর্তজা ক্ষমতার অপব্যবহার করে খাদুলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
তিনি ওই পদে দীর্ঘদিন নিযুক্ত থেকে প্রধান শিক্ষক জামিল উদ্দিনের সাথে যোগসাজসে স্কুলের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সময় সরকারি অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক আত্নসাৎ করেছেন।
অন্যান্য শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার কারনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
বুধবার সকাল ১০ টায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মুর্তজা স্কুলে যায়। এরপর প্রধান শিক্ষক জামিল উদ্দিনের সাথে অফিস কক্ষে বসে স্কুল মাঠে মাটি ভরাট করনের জন্য কাবিটা প্রকপ্লের দুই লাখ টাকা কাজ না করে ভাগ বাটোয়ারা করে।
এসময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিক্ষোভ সহ অফিস কক্ষে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে অরুদ্ধ করে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে মথুরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান আহম্মেদ জেমস স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করে এবং অবরুদ্ধ স্কুল কমিটির সভাপতি গোলাম মুর্তজা ও প্রধান শিক্ষক জামিল উদ্দিনকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে মথুরাপর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হাসান আহমেদ জেমস বলেন, অবরুদ্ধ খাদুলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যলয়ের সভাপতি গোলাম মুর্তজা ও প্রধান শিক্ষক জামিল উদ্দিনকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের রোষানল থেকে ৩ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিভাবক আব্দুল মান্নান জানান, সভাপতি গোলাম মর্তজা ও প্রধান শিক্ষক জামিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্য, কাবিটা প্রকল্পের টাকা আত্নসাৎ, স্কুলের পুকুরের মাটি বিক্রি সহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও স্কুলে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
প্রধান শিক্ষক জামিল উদ্দিন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের অবরুদ্ধ করেছে। তবে সভাপতি গোলাম মুর্তজা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালিন প্রতিষ্ঠানের ৪/৫ জন শিক্ষকের ডিউটি থাকায় পাঠদানের সমস্যা হচ্ছে।
এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমি প্রতিষ্ঠানে আসি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকদের ভুল বোঝাবুঝি কারনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।