প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ১০:০৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৮, ২০২৩, ৪:২৬ পি.এম
কমিশন ছাড়া বিলে স্বাক্ষর করেন না হাতীবান্ধার পিআইও

মিজানুর রহমান: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা।
গত রবিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় কমিটি’র সভায় এ নিয়ে বাক-বিতন্ডার ঘটনাও ঘটে। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিচারসহ প্রত্যাহারের দাবি করেন তারা। এর আগে ওই উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাইদুল ইসলাম শাহ এ উপজেলায় যোগদানের পর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে সমন্বয় না করে নামমাত্র ত্রাণ বিতরণ করে বাকি সব নিজেই আত্মসাৎ করেন। ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কাজ না করে বিল উত্তোলনও করেন পিআইও মাইদুল। এছাড়া টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোতে ২০ শতাংশ কমিশন শর্তে বিলে স্বাক্ষর করেন বলে অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানদের।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, মাইদুলের কারণে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের ভাগাভাগি নিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে দুই ভাইস চেয়ারম্যানের পাল্টা হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটে।
হাতীবান্ধা উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতি’র সভাপতি ও সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু, সাধারণ সম্পাদক ও গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামের অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। কমিশন ছাড়া তিনি কোনো বিলে স্বাক্ষর করেন না। আমরা এ পিআইও’র বিচারসহ প্রত্যাহারের দাবি করে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।
সানিয়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম তালুকদার বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি আমাদের যে আইনি অধিকার তা বাস্তবায়ন হয়না। আমি তালিকা দিলে সেই তালিকা অনুমোদন হয় না বা গ্রহণ করেন না। বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে আমি নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি।
অভিযুক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম শাহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা তার তদন্তে যদি আমি দোষী প্রমাণিত হই তাহলে আমি দোষ মাথা পেতে নিবো। এর বাইরে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজির হোসেন বলেন, কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন্বয় কমিটির সভায় কথা বলেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.