হুমায়ুন কবির সুমন: সিরাজগঞ্জে ছোট ভাই ও ছোট ভাই বউ এর পাতানো ষরযন্ত্রমূলক মানবন্ধনের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বড় ভাই জার্মান প্রবাসী রেজাউল হক মিঞা ।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকালে শহরের একটি হোটেলের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চাচাতো ভাই মো: ফরিদুল ইসলাম, ফুপাতো ভাই মো: শহিদুল ইসলাম।
এসময় রেজাউল হক মিঞা বলেন, কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামের সন্তান আমি। আমি দীর্ঘদিন যাবত জীবিকার কারনে জার্মানী রাস্ট্রে, স্ত্রী, পুত্র পরিবার সহ অবস্থান করি এবং মাঝে মধ্যেই গ্রামের বাড়ী মুগবেলাইতে আসি এবং আমার বাড়ী ও সয়সম্পত্তি দেখার জন্য আসি।
আমার অনপস্থিতিতে আমার বাড়ী ও সয়সম্পত্তি দেখা শোনার জন্য আমার ছোট ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর মনির হোসেন ও তার স্ত্রী মোছাঃ তাছলিমা খাতুনের উপরে বাড়ী ঘর সম্পত্তির ও ২টি ধানের প্রজেক্ট দেখা শোনার ও পরিচালনার সমস্ত দায়িত্ব ভার অর্পন করি। বিগত কয়েক বৎসর করোনাকালীন সময়ে আমি দেশে আসতে পারি নাই।
এই সময়ের মধ্যে আমার জমির ফসল ও ইরি স্কীমের ২টি প্রজেক্টের যাবতীয় আয়-ব্যায় আমার উক্ত ছোট ভাই ও তার স্ত্রী তাছলিমার কাছে থাকে। ইতি মধ্যে আমি গত ইং ২০২২ সালে আমার স্ত্রী সহ গ্রামের বাড়ীতে আসি। বাড়ীতে এসে আমি আমার ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী মোছাঃ তাছলিমার কাছে আমার উৎপাদিত ফসল এবং অন্যান্য জমাকৃত অর্থ সহ হিসাব দেওয়ার কথা বলি। এতে করে তারা ভীষন ভাবে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়।
আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতের আইনের আশ্রয় গ্রহন করি। আদালত আমার অভিযোগটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য পিবিআই, সিরাজগঞ্জকে দায়িত্ব দেন। পিবিআই, সিরাজগঞ্জ সরোজমিনে তদন্ত করে তদন্ত শেষে সত্য রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন, ঐ রিপোর্ট এর উপর ভিত্তি করে মাননীয় আদালত রিপোর্ট টি গ্রহন করেন এবং মামলা আমলে গ্রহন করে, যাহার সি, আর কেস নং ১৬২/২৩ (কামারখন্দ)। আসামীদের বিরুদ্ধে দঃ বিঃ ৪০৬/৪২০ ধারা মোতাবেক সমন ইস্যু করেন। যার ধার্য তারিখ ছিল গত ৩০/৩/২০২৩ ইং। তারিখে আসামীদ্বয় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ১নং আসামীকে সি/ডাব্লিউ মুলে জেল হাজতে প্রেরন করেন এবং ২নং আসামী মোছাঃ তাছলিমা খাতুনকে অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতের এই আদেশের পরে উক্ত মোছাঃ তাছলিমা খাতুন এলাকার চিহ্নিত মাস্তান সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ করে আমার বিরুদ্ধে নানা রকম কুৎসা রটনা সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি আমার জীবনের উপরে হত্যার হুমকী প্রদর্শন করে। এই বিষয়ে আমি সিরাজগঞ্জ সদর থানায় ও কামারখন্দ থানার সাধারণ ডাইরী লিপিবদ্ধ করেছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, সরাষ্ট্র মন্ত্রী সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্থরের কর্মকর্তাবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষন করছি এবং আমার জান ও মালের নিরাপত্তা বিধানের জোর দাবী জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) এর সরেজমিন প্রতিবেদন দেয়ার পরও আসামী হাজত থেকেই নানামুখি অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার সিরাজগঞ্জ আদালত চত্বরে সহোদর ভাইয়ের দায়ের করা প্রতারণা ও আত্মসাৎ একটি মামলায় জামিন না পাওয়াতে শিক্ষক জাহাঙ্গীর মনির হোসেন মিয়া একটি গোষ্ঠিকে দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় শিক্ষকদের সাথে কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতা এ মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদানে অংশ নেয়।