প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৮:৪৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১, ২০২৩, ২:১৫ অপরাহ্ণ
সোনাইমুড়ীতে প্রতিবন্ধীর মেয়েকে ধর্ষণ, সালিশে ধামাচাপা

মোহাম্মদ হানিফ: নোয়াখালী সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৬ মার্চ রাতে নজরপুর গ্রামের ছাড়া বাড়ীর নির্জন বাগানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। নাটেস্বরের এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করে নজরপুরের খোয়াজের ছেলে ফয়সাল ও তার সহযোগী মাহফুজ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ১৮ মার্চ পরিকল্পিত ভাবে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরপুরের মোঃ শহীদ উল্ল্যাহ ও স্বপন মাতব্বর। বিচারে ধর্ষকদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে সালিশ কারীরা।
সরেজমিনে ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ততসময় সামাজিক চাপে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তারা। পরে ভুক্তভোগীর মায়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি লোকলজ্জা ও নিজের মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন" আমার মেয়ের হালকা একটু সমস্যা হয়েছিলো আমরা সমাধান করে নিয়েছি"।
তবে ধর্ষণের শিকার যুবতীর একটি রেকর্ডিং সাম্প্রতি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেই রেকর্ডিংএ ভুক্তভোগী যুবতী অনিচ্ছায় সত্ত্বেও তার সাথে ঘটে যাওয়া সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
সেখানে ভুক্তভোগী বলেছেন, নজরপুর গ্রামের ফয়সাল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ফয়সাল ও মাহফুজ ও তাকে ধর্ষণ করে। তার বাবা প্রতিবন্ধী হওয়ায় ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা ভয়ে লোকলজ্জায় তিনি মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিসি চলার সময়ে সেখানে সাংবাদিকরা চলে আসে। ফলে সালিদারেরা টাকা হস্তান্তর করেতে সক্ষম হয়না। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের তৎপরতা কমলে টাকা স্টাম্পে লিখিত ভাবে ভুক্তভোগী পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে বলে সালিসে সিদ্ধান্ত হয়। আদায়কৃত জরিমানার ২৫ হাজার টাকা রয়েছে নজরপুর ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বরপ্রার্থী মোঃ শহীদ উল্ল্যাহর কাছে। বাকি ৫ হাজার রয়েছে সালিসদার স্বপনের কাছে।
অবৈধ ভাবে সালিস ও ধর্ষণের বিষয় জানতে এলাকায় গিয়ে শহীদ উল্ল্যাহকে পাওয়া যায় না। সূত্র জানায়, শহীদ উল্ল্যাহ সালিসের পরদিন থেকে গা-ঢাকা দিয়েছে।
পরে শহীদ উল্ল্যাহর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ঢাকায় রয়েছেন বলে জানান। কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য সালিস পরিচালনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "যে মেয়েটি ধর্ষণের অভিযোগ তুলছে তার মাথায় সমস্যা রয়েছে।"
অপর সালিসদার স্বপনও ছিলেন নজরপুরে ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বরপ্রার্থী। সাক্ষাতে তিনি বলেন, "সালিসে কোন আর্থিক লেনদেন হয়নি। সালিসি হওয়ার সময় সাংবাদিকরা চলে আসায় সালিশ ভাঙ্গা হয়নি।"
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.