মোহাম্মদ হানিফ: সোনাইমুড়ীতে আর্সেনিক মুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতাধীন ৬৬ জন মাঠ জরিপকারীদের সম্মানী বরাদ্দের ২৫ লাখ টাকার মধ্যে ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বাকী টাকা ছয়নয় করার অভিযোগ উঠেছে। ভাতার টাকা নিয়ে গত ৪ মাস ধরে চলছে টালবাহানা। সম্মানী ভাতা টাকা প্রদানেও করা হয়েছে ঘড়িমসি।
জরিপকারীদের অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় সোনাইমুড়ী উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে আর্সেনিক পরীক্ষার জন্য শর্তসাপেক্ষে মোট৬৬ জন নলকুপ পরীক্ষক/তথ্য সংগ্রাহক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগকৃত জনবলকে প্রতি ২ জনের ১টি টিম করে ১টি ইউনিয়নে মোট ৩টি গ্রুপে ৬ জন তথ্য জরিপকারী নিয়োগ দেয়া হয়।
তারা প্রতি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫ শতটি নলকুপ তথ্য সংগ্রহের টার্গেট দেয়া হয়। প্রকল্পটি ২০২০ সালে বাস্তবায়ন করা কথা থাকলেও করোনার কারনে বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে জানুয়ারীতে প্রকল্প সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতি টিবওয়েল গণনায় ভাতা ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে প্রতিজন তথ্য সংগ্রাহক ৪২৩টি টিবওয়েল ভাগে পড়ে। একজনের ভাতার পরিমান দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৩০০ টাকা।
চলতি ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যই তথ্য সংগ্রহকারীরা ১০টি ইউনিয়নে জরিপ কাজ শেষ করে সোনাইমুড়ী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ বুঝিয়ে দেন। গত ২১ মার্চ তথ্য সংগ্রহকারীদের ১০টি ইউনিয়নের প্রতিজনে ৩৫ হাজার টাকা করে বিতরণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বাকি টাকা হাতিয়ে নেয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন।
আর্সেনিক পরীক্ষা শিমুল জানান, প্রথমে সন্মানী ভাতা প্রদানে টালবাহানা শুরু করেন। বরাদ্ধকৃত অর্থ এখনও আসেনিক এই অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপন করছেন।২০ শে মার্চ প্রতিজনকে ৩৫ হাজার টাকা বাকি টাকা ইনকাম ট্যাক্স খরচ দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল আনোয়ার হোসেন উক্ত অভিযোগ সত্যতা স্বীকার না করে বলেন, যদি কোন পরীক্ষক টাকা কম না পেয়ে থাকে তাহলে পরবর্তীতে প্রদান করা হবে। তবে অনেকেই তাদের টার্গেট ফিলাপ করতে না পারায় টাকা কম দেয়া হয়েছে। পরীক্ষকরা অফিসের অনুমতি না নিয়ে ছয় কাটুন রং নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।