
সোলায়মান বাবু, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আইনশৃঙ্খলার ক্রমেই অবনতি ঘটছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপারেশন থিয়েটারের ব্যবহৃত চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। বুধবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সাংবাদিক নাসিম উদ্দিনের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। বাসার জানালার গ্রিল কেটে সাংবাদিক পরিবারের সবাইকে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগে অজ্ঞান করে চুরির ঘটনা ঘটায়। গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক নাসিম উদ্দিন (৩৬), তাঁর স্ত্রী শামসুন্নাহার (২৩) ও শাশুড়ি শবজান বেগম (৭০) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকরা হয়েছে বলে জানাগেছে।
সাংবাদিক নাসিম উদ্দিনের স্ত্রী শামসুন্নাহার জানান, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ভাড়া বাসায় সাংবাদিক নাসিম উদ্দিন, তার মা শবজান বেগম এবং তিনি নিজে রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় যান। কিছুক্ষন পর থেকেই তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। বাথরুমে গিয়ে বারবার বমি হওয়ায় নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তার মনে হচ্ছিল কেউ তার দুইভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন খুলে নিচ্ছে। কিন্তু বাঁধা দেয়ার মতো তার শরীরে শক্তি ছিল না। অনেক কষ্টে বেডরুমে এসে দেখতে পান তার স্বামী এবং শাশুড়ি মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। পরে দেখতে পান জানালার গ্রিল কাটা। জীবন বাাঁচাতে চিৎকার দিলে এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে চোরর দল পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সাংবাদিক নাসিম উদ্দিন অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগো নিউজ২৪.কমের জেলা প্রতিনিধি।
উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদ এলাকার বাসাবাড়িতে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগে অজ্ঞান করে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। থানায় অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী জানান, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবহৃত চেতনানাশক কোনো ওষুধ পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করলে যে কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়া স্বাভাবিক। মাঝেমধ্যে চেতনানাশক ওষুধে অজ্ঞান হয়ে পড়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, সবগুলো রোগীর ধরন একই। তবে কোন ওষুধে এসব করা হচ্ছে তা ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করলে জানাযাবে।
এব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মজিদ বলেন, 'সাংবাদিক নাসিম উদ্দিনের বাসায় চুরির ঘটনায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তবে বিভিন্নস্থানে সংঘবদ্ধ চক্রের একই কায়দায় চুরির ব্যাপারে তিনি জানান, কিছুদিন আগে বরিশাল থেকে আসা দুইজন চোরের সন্ধান পেয়েছিলাম। পুলিশ জানার তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সার্বিকভাবে চুরি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসা বলেন, চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে কয়েকটি চুরির ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। চুরি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কঠোর হওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।