
মাহবুব তরফদার, গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে রিপা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ বলছে রিপাকে নির্ষাতন করে হত্যা করা হয়েছে। অপর পক্ষ বলছে রিপা আতœহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় বনমালা পূর্ব দত্তপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের এস আই শেখ সজল হোসেনসহ একদল পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এঘটনায় রিপার স্বামীসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত রিপা গাজীপুর পুবাইল থানার হায়দরাবাদ দক্ষিণ পাড়া’র হাফিজ উদ্দিন মোল্লার মেয়ে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, ২ বছর পূর্বে ওই এলাকার বাসিন্দা আল আমীনের সাথে বিয়ে হয় রিপার। এরপর থেকে সে স্বামীর বাড়িতেই থাকত। বিয়ের সময় শশুর বাড়ির লোকজনের কোন চাওয়া পাওয়া না থাকলেও মেয়ের সুখের কথা ভেবে নগদ অর্থ, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ও একটি ওষুধ কারখানায় চাকরির সুযোগ করে দেন আল আমীনকে। কয়েক মাস না যেতেই স্বামীসহ শুশুর বাড়ির লোকজন নানা অযুহাতে রিপাকে তার বাবার কাছ থেকে টাকা দাবি করলে রিপার সংসারিক জীবনে শুরু হয় অশান্তি। ৫-৬ মাস পূর্বে তারা রিপার নিকট মোটা অংকের অর্থ দাবি করলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শুরু হয় নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে তুমুল বাক-বিতন্ডা ও ঝগড়া হয় রিপার।
রাত ১০ টায় শ্বশুর কালাম মিয়া মুঠোফোনে রিপার অসুস্থতার কথা জানালে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। তারা রিপাকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লা মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিপার বাবার বাড়ির স্বজনরা জানায়, হাসপাতালে গিয়ে রিপার লাশ এবং তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। রিপাকে যৌতুকের কারনেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইছে তার শশুর বাড়ির লোকজন। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এর সঠিক বিচার চাই।
যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাবেদ মাসুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও দেবরকে আটক করা হয়েছে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বলতে পারব এটি হত্যা না আত্মহত্যা। এবিষয়ে আইনী ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।