প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৫, ২০২৬, ১:৩৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৪, ২০২১, ৫:৩০ পি.এম

শেখ মাজহারুল ইসলাম সোহান,টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকিং বুথের এজেন্ট এবং বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন সবুজ (২৯)। সে বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকালে তাদের টাকা ফেরতের দাবিতে বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়নের আইসড়া বাজারে অবস্থিত আইসড়া ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ ঘেরাও করে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে।সেখানে ছাত্রলীগ সভাপতি সারোয়ার হোসেন সবুজ বাজারে একটি ভবনের কক্ষ ভাড়া নিয়ে এজেন্ট হিসেবে ব্যাংকিং শুরু করেন।
আইসড়ার গ্রামের অনেক মানুষ প্রবাসে থাকায় তাদের স্ত্রী এবং বাবা-মা সহ স্থানীয়দের টার্গেট করেন প্রতারক সারোয়ার হোসেন সবুজ। ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে সাধারণ হারের চেয়ে উচ্চ হারের টাকার দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে উদ্ধুদ্ধ করেন। অতি মুনাফার আশায় গ্রামের সহজ সরল অনেক মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন।
জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে দেখেন তাদের জমানো টাকা ব্যাংক হিসেবে নেই। এজেন্ট সারোয়ার হোসেন সবুজের কাছে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিভিন্ন গ্রাহককে টাকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা করেন ও ঘুরাতে থাকেন। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। তাদের জমানো টাকা পাওয়ার আশায় বাজারে শালিসি বৈঠক বসান। সেখানে সারোয়ার হোসেন সবুজ টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু হঠাৎ করে গত সাতদিন যাবৎ সারোয়ার হোসেন সবুজ ব্যাংক বন্ধ উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার(২৪ জুন) মিছিল ও সমাবেশ করেন। জানা গেছে, এই এজেন্টের গ্রাহক ভুক্তভোগী রুম্পা বেগমের ১৪ লাখ টাকা, আফজাল হোসেনের ৯ লাখ টাকা, রাজু বেগমের ৭ লাখ টাকা, জলি বেগমের পৌঁনে ৪ লাখ টাকা, বাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেনের ১ লাখ টাকা, ইতি খানের ৪০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে প্রতারক সারোয়ার হোসেন সবুজ।
দোকানদার রাজু মিয়া বলেন, আমিও পাঁচ লাখ জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছি। ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক টাঙ্গাইল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত রয়েছে। তা না হলে প্রতারক সারোয়ার হোসেন সবুজ এই কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেত না। আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি।
গ্রাহক ইতি খান অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রেখেছি। সে এমন প্রতারণা করবে বুঝতে পারিনি। প্রথম যখন টাকা জমা রাখি তখন মোবাইলে এসএমএস আসতো। পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এসএমএস আসতো না। এ বিষয়ে তাদের জানালে তারা বলতো সার্ভার নষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ আফজাল হোসেন বলেন, বিদেশে থেকে পাঠানো ৯ লাখ টাকা আমার মা ও স্ত্রী জমা রেখেছে। উচ্চ হারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা জমা রাখতে বাধ্য করেছে। তারাও গ্রামের ছেলে হিসেবে বিশ্বাস করেছে। দেশে এসে টাকা উঠাতে গেলে জানতে পারি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। ৫ এমন প্রতারক ভাবতেও পারিনি।
ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন দিন আগে আইসড়া বাজারের সকল গ্রাহক, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং পলাতক সারোয়ার হোসেন সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশী বৈঠকে বসানো হয়। সবুজের বাবা তার সম্পতি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধে রাজি হন। সকলের উপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধ করবেন বলেও জানান।
বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কামরান খান বিপুল জানান, সারোয়ার হোসেন সবুজ ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। সে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল। বহু গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রমাণ পেলে তাকে দল থেকে বহিস্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল ডাচ্বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ জানান, এ ঘটনা নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি সভা করেছে। স্থানীয় পর্যায়ের লোকজনকে সাথে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা চলছে।