
ইকবাল হোসেন জীবন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল চুরির সিন্ডিকেটের সদস্যরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। একের পর এক চুরির এসব ঘটনা ঘটলেও জড়িতদের উল্লেখযোগ্য কেউ শনাক্ত বা গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশাসনকে দূষছেন চুরি হওয়া মোটরসাইকেল মালিকরা। বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কোথাও
নিরাপদে মোটরসাইকেল রাখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সূত্র জানায়, এলাকাভিত্তিক একাধিক সিন্ডিকেট এই চুরির সাথে জড়িত রয়েছে। চুরি করা মোটরসাইকেলগুলো নাম্বারপেল্ট পরিবর্তন করে আশপাশের উপজেলা ও দূওে কোথাও বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দু-এক দিন পরপর মোটরসাইলের চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট, জোরারগঞ্জ, মিঠাছড়া, মিরসরাই সদর,
আবুতোরাব, মায়ানী এলাকায় বেশি চুরি হচ্ছে। উপজেলার ১৩নং মায়ানী ইউনিয়নের সিরাজী মুন্সিবাড়ি পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন জানান, গত ৭ মার্চ রাতে আমার বাড়ির গেইট ১৫৫ সিসির একটি অনটেস সুজুকি জিক্সার (নেভি বøু) মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়। পরদিন মিরসরাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আশরাফ। ২৩ ফেব্রæয়ারি বারইয়ারহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বপ্নীল ভবন থেকে ফেমাস ডেকোরেটার্সের মালিক আবুল কালাম ফরিদের মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন জোরারগঞ্জ
থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ফরিদ। গত ১২ ফেব্রæয়ারি ১০নং মিঠানালা ইউনিয়নের পূর্ব মলিয়াইশ রহমানিয়া এলাকায় থেকে আকাশ রহমানেরআরটিআর মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায় চোর দল। গত ৩১ ডিসেম্বর মিরসরাই সদরের গোভনিয়া এলাকার
বাসিন্দা নুরুল আবছারের ঘরের বারান্দা থেকে গেট ভেঙে মিরসরাই বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইলের মোটরসাইকেলও চুরি হয়ে যায়। ১৮ ডিসেম্বর রাতেও জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলমের বাড়ি থেকে তার ছেলে
মোয়াজ্জেম হোসেনের মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার পোল্ট্রি ব্যবসায়ী এমরান, মিঠাছড়া বাজারের ফারুক হোসেন, এস এম লাইব্রেরির সামনে থেকে মাঈনুল হোসেন, জামশেদ মাস্টার, আলফা টেইলার্সের সামনে থেকে দিদারুল আলমের, পূবালী ব্যাংকের সামনে থেকে মীর হোসেন, ওয়ান ব্যাংকের সামনে থেকে মিজান মেম্বারের, পূবালী ব্যাংকের
সামনে থেকে আকতার হোসেনে, মায়ানী পোল্ট্রি ব্যবসায়ী নুরুল করিম লিটন এর বাড়ি থেকে ডিসকভার ১০০সিসি, আবুতোরাব দুবাই ট্রেডার্সর্ মালিক গিয়াস উদ্দিনের জারা মোটরসাইকেল চুরি হয়। ভুক্তভোগী আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমাদের বাড়ির ভেতরে রাখা মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। এরপর অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও আর পাইনি। গত দেড় মাসে শুধু জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের
বিভিন্ন এলাকায় অনেক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। একটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মিরসরাই থানার ওসি মজিবুর রহমান পিপিএম বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি এবং মোটরসাইকেল চুরির সিন্ডিকেটদেও খুঁজে বের করার অভিযান অব্যাহত রেখেছি।