
এই ঘটনায় মৃত শিশুর বাবা চয়ন তালুকদার বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় ২০১২ সালের মানব পাচার দমন আইনের ১০ (২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-৪৯, তারিখ-২৪-০২-২০২১ইং। রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে সদর থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম (বিপিএম) এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ৭ বছর পূর্বে আলপনা খাতুনের বিবাহ হয়।
সেই পরিকল্পনা মাফিক গত (২৩ ফেব্রুয়ারী) সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতাল থেকে ২৩ দিনের বাচ্চা (মাহিম) ও গত শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সলঙ্গা থানার সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে জন্মের ৭ ঘণ্টা পর (সামিউল) নামের আরেক বাচ্চা চুরি করে। পরে শিশু দুটিকে আলপনা তার বাবার বাড়ী সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামে নিয়ে যায়।
সেখানে তার মা, চাচী, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ প্রতিবেশীদের জানাই এটি তারই সন্তান। শিশু আলপনার হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার বাবার বাড়ীর সদস্যরা দেখাশোনা করে। পরের দিন শিশু (মাহিম) অসুস্থ হলে তারা নিকটবর্তী পল্লী চিকিৎসক মোঃ শরিফুলের নিকট নিয়ে যায় এবং শরিফুল শিশুটির দেহে ইনজেকশন দেয়। কিছুক্ষণ পরে শিশু মাহিম মারা যায়। পরে আলপনা মৃত দেহ ঘরের রক্ষিত ধানের গোলায় লুকিয়ে রাখে। এরপর আলপনা বোরকা পড়ে আবারো (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকালে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে (সামিউল) নামের জন্মের ৭ ঘণ্টা পর আরেকটি শিশু চুরি করে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতাল ২৩ দিন বয়সী এক বাচ্চা ও শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সলঙ্গা থানার সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে জন্মের ৭ ঘণ্টা পর আরেক বাচ্চা চুরি হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মোঃ শরাফত ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল স্নিগ্ধ আক্তার, সদর থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকীসহ জেলার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।