প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ২:১৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২৭, ২০২০, ২:১২ পি.এম
ভৈরবে মেয়র, কাউন্সিলর ও পুলিশসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানী মামলা

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ভৈরবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগে পৌরসভার মেয়র এড, ফখরুল আলম আক্কাছসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি মানহানী মামলা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভৈরবের মোঃ তাবারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তি এই মামলাটি দায়ের করেন। তার বাবার নাম শব্দর আলী এবং বাড়ী উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামে।
এই মামলায় তিনজন পৌর কাউন্সিলর, একজন পুলিশ, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানকে আসামী করা হয়েছে। আদালত মামলাটি কিশোরগঞ্জ পিবিআইকে তদন্ত করতে আদেশ দেন।
মামলার আসামীরা হলো ভৈরব পৌর মেয়র এড, ফখরুল আলম আক্কাছ, কিশোরগন্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সুলাইমান, ভৈরব পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ আল- আমিন, পৌর কাউন্সিলর মোঃ দ্বীন ইসলাম, কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহ নিয়াজ, পুলিশের এস আই মাজহারুল ইসলাম, পৌরসভার প্রধান সহকারী ইমাম হোসেন, জিল্লুর রহমান, বাদল মিয়া, লিয়াকত আলী ও আঃ হেকিম।
বাদীর এজাহার সূত্রে জানা গেছে একটি ওয়ারিশান সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় গত ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাদী তাবারুক হোসেনকে আসামীরা তার বাড়ী থেকে পৌরসভায় ডেকে এনে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন পৌর মেয়র। পরে পৌরসভার প্রধান সহকারী ইমাম হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা দিলে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তারপর বাদী দুইমাস ১৭ দিন জেল খাটার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পায়। এই মামলার অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারী তাবারুক হোসেনকে মুক্তি দিয়ে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। তারপর করুনার কারনে বিলম্ব হলেও বাদী তাবারুক হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্যাট আমলী আদালত-২ এ ২ কোটি টাকার মানহানী মামলা করেন।
বাদীর অভিযোগ পৌর মেয়র অন্যান্য আসামীদের সহযোগীতায় তাকে বাড়ী থেকে ডেকে এনে পুলিশে সোপর্দ করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে দেয়াসহ তার মানসন্মান সমাজে ক্ষুন্ন করেছে। তাবারুক হোসেন জানান, আমি ওয়ারিশান সার্টিফিকেট জাল করেনি। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ফারুক মিয়া তহবিলের টাকা আত্মসাত করলে আমি আদালতে মামলা করি। এই মামলায় তার ১ বছরের জেল হয়। আসামী ফারুক জালিয়াতি করে পৌরসভায় একটি জাল ওয়ারিশান সার্টিফিকেট দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যা আদালতে প্রমান হয়েছে যে ওয়ারিশান সার্টিফিকেটটি আমি জাল করেনি। পৌর মেয়রের কারনে আমি জেল খেটেছি, আমার মানসন্মান গেছে। তাই আমি ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানী মামলা করেছি।
ভৈরব থানার এস আই মাজহারুল ইসলাম জানান, তৎকালিন ওসির নির্দেশ পেয়ে আমি পৌরসভায় যায়। সেখানে গেলে মেয়র সাহেব তাবারুক হোসেনকে আমার হাতে তুলে দেয়। পরে তার বিরুদ্ধে পৌর কর্তৃপক্ষ মামলা করে। এতে আমি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। পৌর মেয়র এড, ফখরুল আলম আক্কাছ জানান, বাদী তাবারুক হোসেন একজন প্রতারক। সে আদালতে জাল ওয়ারিশান সার্টিফিকেট দাখিল করে ফারুককে সাজা প্রদান করে। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদবীরের অভাবে আদালত খারিজ করে দেয়। মেয়র হিসেবে আমি ব্যস্ত থাকি। যারা মামলা তদারিকির দায়িত্বে ছিল তারা গাফলতি করেছে। আদালতে দায়ের করা মামলাটি আইনিগত ভাবে মোকাবেলা করবে বলেও জানান তিনি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.