রবিউল হাসান লায়ন: দুই বিঘা (৬০ শতাংশ)জমির দাম বারো লক্ষ টাকা দাম ধরে সাড়ে দশ লক্ষ টাকা নগদ নিয়ে জমি লিখে দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিবেশী ছয় জনের নামে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক যুবক।
জামালপুর সদর উপজেলার চরগজারিয়া নামাপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী সজিব সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
গত ১ জানুয়ারি (বুধবার) ভুক্তভোগী যুবক বাদী হয়ে প্রতিবেশী রুহুল উদ্দিন, রিপন মিয়া, লিখন মিয়া, মুনছর আলী, শওকত ও পার্শ্ববর্তী চর যথার্থপুর গ্রামের শাকিলের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বারো লক্ষ টাকায় দুই বিঘা জমি বিক্রি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত জুন ও আগষ্ট মাসে দুই দফায় সাড়ে দশ লক্ষ টাকা নগদ নিয়ে জমি লিখে দেয়ার তালবাহানা শুরু করেন রুহুল উদ্দিন ও তার পরিবার।
এ নিয়ে স্হানীয় ভাবে আলাপ আলোচনা চলতে থাকে। জমি লিখে দেয়ার কথা বলে গত ২৩ ডিসেম্বর ব্রহ্মপুত্র নদীর খেয়াঘাট থেকে ভুক্তভোগী সজিব কে অপহরণ করে নিয়ে যায় রুহুল উদ্দিন এর সন্তান লিখন ও তার সহযোগীরা।
পার্শ্ববর্তী চর যথার্থপুর গ্রামে তার আত্নীয়ের বাড়িতে নিয়ে সজিব কে হাতপা বেঁধে নির্যাতন করে তারা। এসময় আসামিরা তাকে মারধর করে প্রাননাশের হুমকি দেয়। তার হাত ও পায়ের নখে চাপ দিয়ে ধরে এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে থাকে। গত ২৪ ডিসেম্বর ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ছয়টি ননজুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও টিপসই নেয় আসামিরা।
এ অবস্থায় স্হানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী তাকে উদ্ধার করে আনেন। তারপর জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় ভুক্তভোগী সজিব। জামালপুর সদর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, গত ২ জানুয়ারি মামলার এক নম্বর আসামি রুহুল উদ্দিন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুইদিন পুলিশ রিমান্ডে ছিল এই আসামি।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী সজিব জানান, আমার কষ্টে উপার্জিত এবং গরু বিক্রির সাড়ে দশ লক্ষ টাকা ফেরত চাই। নির্যাতন করে ভুয়া দলিলে স্বাক্ষর নেয়ায় আসামিদের শাস্তি চাই।