প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৫:২৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১৩, ২০২৩, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন: গ্রেফতার তিন

রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া : বগুড়া সদর থানা পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্যকর সাবেক কাউন্সিলর পুত্র ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত ৩ (তিন) জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা যায়, বাদীনি মোছাঃ তহিরন বেগম বগুড়া জেলার সদর থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন যে, আসামী সাকিবের সাথে মারপিটের ঘটনায় আসামীর পিতা মিলু বাদী তার ছেলে মোঃ আরিফ (২১) পিতা-মোঃ জহুরুল মন্ডল, সাং-সুলতানগঞ্জপাড়া, থানা ও জেলা-বগুড়াকে ১নং আসামী করে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-৫৬ তাং-১৯/১০/২০২৩ ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৪/ ৩২৬/৩০৭ পেনাল কোড। যা বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। তার ছেলে উক্ত মামলায় প্রায় ১৮ (আঠার) দিন জেল হাজতে ছিল। প্রায় ২ (দুই) সপ্তাহ আগে বাদীনির ছেলের জামিন হয়।
এর পর হতে আসামীগণ তার ছেলেকে খুন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকী দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ইং-০৫/১২/২০২৩ তারিখ রাত্রী অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় বাদীনির ছেলে আরিফ (২১) বগুড়া সদর থানাধীন সুলতানগঞ্জপাড়াস্থ স্বদেশ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এর সামান্য উত্তরে আরজু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এর সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌছামাত্র উপরোক্ত সকল আসামীগণসহ অজ্ঞাতনামা আসামীগণ পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে একই উদ্দেশ্যে হাতে ধারালো অস্ত্রসহ পথরোধ করে ঘিরে ধরে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। আসামীগণ তার ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল হতে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন বাদীনির ছেলেকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতাল, বগুড়ায় নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বগুড়া সদর থানার মামলা নং-২০ তাং-০৭/১২/২০২৩ খ্রিঃ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
বগুড়া সদর থানার একটি চৌকস টিম, এন্টি টেররিজম ইউনিট এর গোয়েন্দা তথ্যের সহযোগিতায় ইং ১২/১২/২০২৩ খ্রি. তারিখ ডিএমপি, ঢাকার রমনা মডেল থানাধীন কাকরাইল মসজিদে অভিযান পরিচালনা করে এই চাঞ্চল্যকর নৃশংস হত্যা কান্ডের সহিত সরাসরি জড়িত মূল আসামী ১। মোঃ সাকিব শেখ (১৯), সহ এজাহারনামীয় আসামী ২। মোঃ সানমুন শেখ (২৩) উভয় পিতা-মোঃ মিলু শেখ, ৩। মোঃ হিমেল শেখ (২৩) পিতা-মোঃ হাতেম আলী ওরফে গেদা, সর্ব সাং-নিশিন্দারা পূর্ব খাঁপাড়া, থানা ও জেলা-বগুড়াগণকে গ্রেফতার করে। আসামীগণ হত্যাকান্ড সংঘটিত করার পর আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে প্রথমে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে যায়। হিলি বর্ডার এলাকায় গিয়ে দেশের বাহিরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কোন সুরাহা করতে না পেরে তারা পুনরায় তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ঢাকা মহানগরস্থ কাকরাইল মসজিদে অবস্থান নেয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল তারা মসজিদে পূর্ব থেকে অবস্থানরত তাবলীগ জামাতের মুসুল্লি সেজে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে আত্মগোপন করবে। সদর থানা বগুড়া বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে এ অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.