মিজানুর রহমান: অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যারা অতন্দ্রপ্রহরীর মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদেরই একজন হচ্ছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, এমপি। দীর্ঘ দিনের এই জনপ্রতিনিধি নিজের নেতৃত্ব গুণে তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। পারিবারিকভাবেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন নুরুজ্জামান আহমেদ। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯০ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন।
২০১৪ সালে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী - কালীগঞ্জ) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নুরুজ্জামান। প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই বাজিমাত করেন আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা। ২০১৫ সালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় নুরুজ্জামানকে।
এক বছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পুরস্কার হিসেবে সমাজকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান একাত্তরের রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাঠপর্যায় থেকে উঠে আসা এই নেতা যে কতটা জনপ্রিয় তা আরও একবার প্রমাণিত হয় ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নিজের আসন লালমনিরহাট-২ থেকে আবারও এমপি নির্বাচিত হন নুরুজ্জামান। এরপর নতুন সরকার গঠিত হলে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পান তিনি।
এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় নুরুজ্জামানকে। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর অবিচলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। সমাজকল্যাণমন্ত্রী হওয়ার পর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নুরুজ্জামান।
প্রতিষ্ঠালাভের পর বেশ কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। বার্ষিক উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২০ এর সার্বিক মূল্যায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রথম স্থান অর্জন করে। ২০২০-২১ অর্থবছরের সার্বিক মূল্যায়নে ৫২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘৪র্থ স্থান’ অর্জন করেছে।
পরবর্তীতে ২০২১ সালে তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে অবদান রাখার জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘দ্বিতীয় স্থান’ অর্জন করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের সার্বিক মূল্যায়নে ৫২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে ‘নবম স্থান’ অর্জন করে। বিগত কয়েক বছরে মন্ত্রণালয়ের এমন সাফল্যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ।
নুরুজ্জামানের অধীনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রতিবন্ধীদের থাকার ও কর্মসংস্থানের জন্য ‘সুবর্ণ ভবন’। রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চত্বরে ১৫ তলাবিশিষ্ট এই ‘সুবর্ণ ভবন’ গড়ে তোলা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
সুবর্ণ ভবনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে ডিজেবল কেয়ার ইউনিট, ইনপেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট, অটিজম রিসোর্স সেন্টার, নিউরো ডেভেলপমেন্টাল সমস্যাযুক্ত ব্যক্তির থেরাপিভিত্তিক সেবা ও কাউন্সিলিং, কারিগরি ও সাধারণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম, অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ইনক্লুসিভ স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার।
এছাড়া রয়েছে শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা, ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাপ্তরিক কক্ষ, লাইব্রেরি, মাল্টিপারপাস হল, কনফারেন্স রুম, ক্যাফেটেরিয়া, নামাজের স্থান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎপাদিত বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর প্রদর্শন ও বিক্রয় ব্যবস্থা।
এদিকে বর্তমানে দেশে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মাসিক ভাতা দেয়া হচ্ছে। আগে যেখানে মাসে ৭৫০ টাকা ভাতা দেয়া হতো তা বাড়িয়ে এখন ৮৫০ টাকা করা হয়েছে। ভাতা কর্মসূচির বাইরেও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি চালু করেছে সরকার। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই উপবৃত্তির উপকারভোগী হয়েছে এক লাখ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। এছাড়া দেশের অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকি হ্রাসকল্পে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের আওতায় ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বীমা’ চালু করা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ৮৫টি সরকারি শিশু পরিবারে এতিম, দুস্থ ও অসহায় শিশুরা বেড়ে উঠছে। তাদের বসবাসের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারি শিশু পরিবার ও ছোটমনি নিবাস নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৮টি সরকারি শিশু পরিবার এবং একটি ছোটমনি নিবাস নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য ঈর্ষণীয়। সেই সফলতাকে সামনে রেখে এবার ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চায় বর্তমান সরকার। আর সেই স্মার্ট বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত। সেই স্বপ্ন দেখিয়েই সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে স্মার্ট প্রযুক্তির সূচনা হয়েছে। এক কোটিরও বেশি ভাতাভোগী এবং পাঁচ কোটিরও বেশি উপকারভোগী সরাসরি এ মন্ত্রণালয়ের সেবার আওতাভুক্ত। অদূর ভবিষ্যতে এ বিশাল সংখ্যক মানুষ দারিদ্রসীমা থেকে বেরিয়ে আসবে।