হোম » প্রধান সংবাদ » সংবাদ প্রকাশের পর কথিত ডাক্তার পাপিয়া খাতুন পলির দোড়ঝাপ শুরু

সংবাদ প্রকাশের পর কথিত ডাক্তার পাপিয়া খাতুন পলির দোড়ঝাপ শুরু

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : কথিত ডাক্তার পাপিয়া খাতুন পলি বিভিন্ন মহলে দোড়ঝাপ শুরু করেছে। বিভিন্ন মহলে তদবীর ও স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রতিবাদ ছাপিয়ে শাকদিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর বাজারে যমুনা ডায়াগস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে ভূয়া ডাক্তারের সন্ধান মিলেছে শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এনিয়ে পাপিয়া খাতুন পলির এলাকায় চলছে নানা গুণজন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বহুলী গ্রামের গত শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে জানাযায়, কোন মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেনি তিনি।

 

নেই বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)’র রেজিস্ট্রেশন। রেজিস্টেশন নং দেওয়া আছে ৯০০১ কিন্তু ৯০০১ দিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)’র ওয়েব সাইডে সার্চ দিলে জেলা পরিদপুরের ডাক্তার এআর মোল্লা আব্দুল এর নাম পাওয়া যায়।  এবিষয়ে দু একজন চিকিৎকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই রেজিস্ট্রেশন ভ’য়া আরেক জনের রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে দিনের পর দিন প্রতারণা করেছে বলে তারা জানান।
এদিকে তিনি প্রসূতি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রসহ প্রায় সব রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র লিখছেন গোপনে। মোছাঃ পাপিয়া খাতুন পলির সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বহুলী গ্রামের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে থাকেন সাধারণ মানুষের কাছে। পড়াশোনা করেনি কোন মেডিকেল কলেজেও। তার পরেও তিনি এলাকায় নামের আগে ব্যবহার করছে ডা. পদবী।

এদিকে ভ’য়া ডাক্তার পলি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোগিদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। রোগিদের কাছ থেকে সিরিয়াল বাবদ নিচ্ছে নতুন ৪’শ ও পুরাতন ৩’শ টাকা। (বিএমডিসি)’র আইন অমান্য করে লিখছেন সব ধরনের রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র। ঔষধ ক্রয়ের পর রোগিদের কাছ থেকে রেখে দিচ্ছেন চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র। গ্রামের মানুষের অসহায় ও অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কথিত ডাক্তার প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

এদিকে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আশা সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের ভুক্তভোগি করুনা খাতুনের স্বামী মো. মোকাদ্দেস আলী জানান, রোববার (৬ অক্টোবর) তার স্ত্রীকে যমুনা ডায়াগস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে গেলে বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষা করে রিপোর্ট প্রস্তুত করে পলি ডাক্তার সিজার করার পরার্মশ দেয়। পরে কত টাকা লাগবে জিজ্ঞাসা করলে নগদ ১২ হাজার টাকা চায়। অনেক দরকষাকষির পর ৮ হাজার টাকা নিয়ে তিনি সিজার করে দিছে। সেখানে সিজার করার সময় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের এনেসথিশিয়া (অজ্ঞানের ডাক্তার) ডা: কমল কান্তি দাস উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।

প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুয়া ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার খবর মিলছে। দেশজুড়ে এই অবস্থা এখন উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন ও ছাড়পত্র ছাড়া কেউ ডাক্তার লিখে কোন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার বিধান না থাকলেও এই ভূয়া ডা: মোছাঃ পাপিয়া খাতুন (পলি) ডাক্তার না হয়ে রোগী দেখেন প্রতিনিয়ত। নিজেই “ডাক্তার” বলে সমেশপুুর বাজারে যমুনা ডায়াগস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা নামে প্রতারণা করছে।  প্রশাসনের তদারকি না থাকায় কারণে দীর্ঘদিন প্রতারণা করে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা।

বিএমডিসি’র অ্যাক্ট-২০১০ সালে প্রকাশিত গেজেট এর ধারা ২২ (১) ও ২৯(১) এর আওতায় বলা আছে ন্যূনতম এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রীধারী ব্যতীত ও ছাড়পত্র ছাড়া কেউ “ডাক্তার” লিখতে পারবেন না। কিন্তু মোছাঃ পাপিয়া খাতুন (পলি)র ব্যাপারে একটু ভিন্ন। প্রকৃত ডাক্তার না হলেও এলাকা সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন।
সমেশপুর বাজারের কয়েকজন ভুক্তভোগী রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোছাঃ পাপিয়া খাতুন (পলি) প্রায় দেড় বছর ধরে যমুনা ডায়াগস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতে ডাক্তার হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছে আমরা জানি তিনি একজন ডাক্তার তাই তার কাছে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকি। তার যে কোন ডিগ্রী বা চিকিৎসা সেবার কোন সনদ নাই আমরা আজ জানতে পারলাম।

এ বিষয়ে ভূয়া ডা: মোছাঃ পাপিয়া খাতুন (পলি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেড় বছর ধরে যমুনা ডায়াগস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। হাসপাতাল মালিক পক্ষ আমাকে যে ভাবে বলেছে আমি সেই ভাবে ডাক্তারি করছি। পড়ালেখা সর্ম্পকে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন আমি এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি পরে ২০১৩ সালে নার্সিং ট্রেনিং নিয়েছি এর পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় এমন দ্বায়িত্ব পালন করে এখন এই হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে রুগি দেখছি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ন্যূনতম এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রীধারী ব্যতীত বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশন ও ছাড়পত্র ছাড়া কেউ ডাক্তার পদবী লিখতে বা নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে না। তবে কোন কথিত ডাক্তার যদি এমন কর্মকান্ড করে থাকে তাহলে নিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!