প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১০:৩৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৬, ২০২৩, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
দাগনভূঞা আমুভূঞা হাট দাখিল মাদরাসায় আয়া পদে অনিয়মের অভিযোগ। তদন্ত কমিটি গঠন

দাগনভূঞা প্রতিনিধি: দাগনভূঞা ৩ নং পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়ন আমু ভূঞা হাট হাছানিয়া দাখিল মাদরাসায় আয়া পদে অনিয়মের অভিযোগ এনে মারজান আক্তার নামে একজন পরিক্ষার্থী দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ১০ ই অক্টোবর অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দাগনভূঞা সমাজসেবা কর্মকর্তা আইনুল হোসাইন জিলানীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগকারী মারজান আক্তার বলেন, আমার পিতা আব্দুল খালেক এই মাদ্রাসায় দপ্তরি পদে চাকরি করে অবসর গ্রহণ করেন। এর পর আমি মাদরাসায় প্রায় ২ বছর চাকরি করেছি। এর পর গত ৬ অক্টোবর শুক্রবার দাগনভূঞার উপজেলাধীন আমু ভূঞারহাট হাছানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আয়া পদে নিয়োগ পরিক্ষায় আমরা ০৫(পাঁচ) জন অংশগ্রহন করি।
নিয়োগ পরিক্ষার হলে নিয়োগ কমিটির সদস্য জনাব ফয়েজ আহাম্মদ মিঞা, যিনি মাদ্রাসা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং কমিটির সভাপতি জনাব জামাল উদ্দিন ছুটু মিঞার শ্যালক। উক্ত ফয়েজ আহাম্মদের মাধ্যমে আয়া পদের প্রার্থী নিলুফা আক্তারকে নিয়োগ খাতাটি সম্পূর্ণ লিখে দিয়ে কৃতিত্ব প্রথম স্থান ঘোষনা করেন। আমাকে দ্বিতীয় ঘোষনা করেন। মাদ্রাসার সভাপতি সাহেব নিয়োগ হলে উপস্থিত ছিলেন। ডিজি, মহোদয়ের প্রতিনিধি জনাব মোঃ আবদুল মান্নান সাহেব। তিনি পরিক্ষার্থীদের খাতায় স্বাক্ষর না করে জনাব ফয়েজ আহাম্মকে দিয়ে খাতায় স্বাক্ষর করিয়াছেন। তিনি পরিক্ষার হলের ভিতরে বাইরে বারবার যাতায়াত করে।
না দেখার ভান করেছেন। এবং দেখার পরও কোনো প্রতিকার করেন নাই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব আজিজুল হক সাহেব একবারও নিয়োগ পরিক্ষার হলে আসেন নাই। মাদ্রাসার সুপার জনাব বেলাল হোসাইন সাহেব পরিক্ষা শুরুর প্রথমে আসেন এবং মাঝে একবার উঁকি মেরে চলে গিয়েছেন। মৌখিক পরিক্ষার শেষ দিকে আমরা প্রার্থীগন এর প্রতিবাদ করিলে তাঁহারা জুমার নামাজের অজুহাতে তড়িগরি করে চলে গিয়েছেন।
এই নিয়োগ পরিক্ষার চরম জালিয়াতির বাস্তব প্রমান হলো এই একই মাদ্রাসায় গত ২৪ শে মার্চ তারিখে অন্যান্য পদের সাথে আয়া পদেও নিয়োগ পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তখন ০৩(তিন) জন প্রার্থীর মাঝে আমি প্রথম হই। এবং ৬ ই অক্টোবর ইং তারিখে কতিত্ব প্রথম হওয়া প্রার্থী নিলুফা আক্তার এক নাম্বারও পায় নাই। বর্তমানে সে কি করে লিখিত পরিক্ষায় ১৭ নাম্বার পেয়ে প্রথম হয়। নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী ০৩(তিন) জন প্রার্থী পাশ নাম্বার না পাওয়ায় তখন আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। উক্ত ২৪ শে মার্চ ইং তারিখে নিয়োগ পরিক্ষায় যাবতীয় খাতা পত্র অবশ্যই মাদ্রাসায় রক্ষিত রয়েছে। যাহা সুষ্ঠু তদন্তে বের হবে।
নিয়োগ কমিটির সদস্য ফয়েজ মিয়ার সাথে ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। পরিক্ষার হলে সরকারি লোক থাকতে আমি কিভাবে খাতা লিখে এনে দিব। আর এই অভিযোগ পরীক্ষার হলে করে নেই কেন। মাদরাসার সভাপতি জামাল উদ্দিন ছুট্ট মিয়ার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মাদরাসার সুপার বেলাল হোসাইন বলেন, আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রথমে গেলেও এর পরে উপস্থিত ছিলাম না। আমি সভাপতির সাথে তখন মাদরাসার ব্যাপারে কথা বলছিলাম। পরীক্ষার হলে কী হয়েছে আমার জানা নেই। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুল হক বলেন,এটি যেহেতু তদন্তাধীন। তাই এব্যাপারে আমি কোন কথা বলবনা। এটি তদন্ত কর্মকর্তা বলতে পারবেন।
দাগনভূঞা নির্বাহী অফিসার নিবেদিতা চাকমার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.